রিয়ালকে হারিয়ে সুপার কাপ অ্যাটলেটিকোর

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:০৫
নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। গতকাল ঘরের মাঠ ভিসেন্টে ক্যালডেরনে মাদ্রিদকে ১-০ গোলে পরাজিত করে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় অ্যাটলেটিকো। এর মাধ্যমে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে হারের প্রতিশোধ কিছুটা হলেও নিতে সক্ষম হল লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। অ্যান্টোনিও গ্রিজম্যানের পাস থেকে ম্যাচ শুরুর ৮১ সেকেন্ডের মধ্যেই মারিও মানজুকিচ দুর্দান্ত এক ভলিতে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেয়। শুরুর সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নরা। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তারকা উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে মূল একাদশে জায়গা দেননি। একই চোটের কারণে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে শুধুমাত্র প্রথমার্ধ খেলতে পেরেছিলেন এই পর্তুগীজ তারকা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে নেমেও রোনালদো অ্যাটলেটিকোর শক্ত রক্ষণবুহ্যকে ভাঙ্গতে পারেননি। ফলস্বরূপ এবারের মৌসুমে রিয়ালের ছয়টি শিরোপা জয়ের স্বপ্নও ভেঙ্গে গেল। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘গত মৌসুমের শেষের থেকে এই পর্যন্ত রিয়াল তিনটি শিরোপা জিতেছে। আমি এজন্য সকল খেলোয়াড় ও ক্লাবকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ আমি মনে করি আমরা প্রত্যাশা মতই এগিয়ে যাচ্ছি। এই ম্যাচে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লীগে ফাইনালের থেকে আমি এই ম্যাচটিকে এগিয়ে রাখবো।’ রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পরেও আনচেলত্তি পুরো ম্যাচেই অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছিলেন। আর তাই রিয়ালে এই আর্জেন্টাইনের ভবিষ্যত্ নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যদিও তিনি ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন ডি মারিয়ার অনুপস্থিতির কারণ সম্পূর্ণই ম্যাচ সংক্রান্ত। তিনি বলেছেন, ডি মারিয়ার না খেলাটা কৌশলগত কারণেই, আজ তাকে দলে খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। এদিকে সহকারী রেফারির সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় সাত ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন অ্যাটলেটিকো বস দিয়েগো সিমিওনে। যদিও বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে দু:খ প্রকাশ করে সিমিওনে বলেছেন, ঐ সময় তিনি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। রাইট ব্যাক হুয়ান ফ্র্যানের মুখে আঘাত লাগার পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে সহকারী রেফারির সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এই জয়টি ছিল গত ১৫ বছরে ঘরের মাঠে রিয়ালের বিপক্ষে অ্যাটলেটিকোর প্রথম জয়। তিন বছর আগে অ্যাটলেটিকোর দায়িত্ব নেবার পর থেকে সিমিওনের অসাধারণ সাফল্যের মুকুটে এই শিরোপার মাধ্যমে আরেকটি পালক যুক্ত হলো। যদিও গত মৌসুমে লা লিগা শিরোপা ধরের রাখার ব্যাপারে আবারো হতাশার কথাই শুনিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই কোচ। তিনি বলেন, রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনার মত কোন দলের বিপক্ষে যখন দীর্ঘ সময়ের কোন লিগ খেলতে হয় তখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সত্যিই বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু একটি বা দুটি ম্যাচে যেকোন দলকে পরাজিত করা সম্ভব। ম্যাচ শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের একটি ভুলে অ্যাটলেটিকো এগিয়ে যাবার পরেই রিয়াল মূলত ছন্দ হারিয়ে ফেলে। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে আসার পরে এটি ছিল অ্যাটলেটিকোর হয়ে মানজুকিচের প্রথম গোল। লুকা মড্রিচের একটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা অল্পের জন্য গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেবার দায়িত্ব পড়ে হামেস রড্রিগেজের ওপর। কিন্তু প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল ময়া দু’বার গোলবঞ্চিত করেন এই কলম্বিয়ানকে। নিজে না পারলেও বেলকে দারুণ একটি বল যোগান দিয়েছিলেন রড্রিগেজ। কিন্তু এই ওয়েলসম্যান সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালকে। বিরতির পরে মিডফিল্ডার টনি ক্রুসের স্থানে রোনালদোকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি আনচেলত্তি। তারও একটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে রুখে দেন ময়া। অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মড্রিচ মাঠের বাইরে চলে গেলে তা রিয়ালের হতাশাই কেবল বাড়িয়েছে। —বাসস/ওয়েবসাইট