মৃত্যুকে কে না ভয় পায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানার আগে এটা জেনে নিন-মৃত্যু ভারতীয় তরুণ নাসির খানকে ভয় পায়। সত্যিই তাই। মৃত্যুকে ভয় দেখিয়ে নিজের প্রাণ কেড়ে আনলেন ওই যুবক! বাঁচার ইচ্ছায় ২৪ বছরের এই সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যা করেছেন, তা চমক লাগিয়ে দেয়। তার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি দেখে আশ্চর্য চিকিত্সকরাও।
কী হয়েছিল তার? বেঙ্গালুরুর ২৪ বছরের সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নাসির আহমেদ। ইন্দিরানগরের একটি আইটি কোম্পানিতে চাকরিরত। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ২০ জুলাইয়ের ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান রবিবারের সকাল শুরু করেছিলেন খুব হাসি-খুশি ভাবেই। ঠিক করেছিলেন, মহিশোরে নিজের বন্ধুর সঙ্গে রবিবারের ছুটি কাটাবেন তিনি। তাই ট্রেন ধরতে স্টেশনে যান। টিকিট কেটে একটি ট্রেনে চড়ে গেটের কাছে দাঁড়ান। ট্রেনটি কয়েক মিটার এগিয়েছিল মাত্র। তার পরই হঠাত্ পা পিছলে যায় এবং তিনি লাইনের ওপর পড়ে যান।
নাসির বলেন, ‘ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর দেখি একটি পাতলা চামড়া আমার পা দুটো শরীরের সঙ্গে জুড়ে রেখেছে। আর গল গল করে রক্ত পড়ছে। আশপাশে তাকাই। কিন্তু সেখানে কেউ ছিল না। বাড়িতে থাকা আব্বা-আম্মাসহ সবার মুখ মনে পড়ে। বাঁচতে বড় ইচ্ছা হলো। নিজের সমস্ত ইচ্ছাশক্তি একত্রিত করে প্ল্যাটফর্মের দিকে রওনা দিলাম দুই হাতের উপর ভর করে। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করলাম। ১০৮-এ ফোন করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলাম। বন্ধুকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা জানালাম। এরপর বাইয়াপান্নাহাল্লি স্টেশনে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা করতে থাকি।
বাইয়াপান্নাহাল্লি প্রধান স্টেশন না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স চালকের চিনতে অসুবিধা হবে বলে ফোনেই তাকে রাস্তাও জানাতে থাকেন। প্রায় ৪০ মিনিট তিনি প্ল্যাটফর্মে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় বসেছিলেন। তার পরই তার বন্ধু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেখানে পৌঁছায়। তাকে বউরিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখান থেকে দক্ষিণ হোসমাতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ডাক্তার প্রদীপ কিরণ এবং প্রিয়দর্শন জানিয়েছেন, ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বাম পা বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি তার ঘটনা মিডিয়াতে আসার পর অনেকেই দেখতে যাচ্ছেন তাকে।
