বিদ্যুত্ সরবরাহে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা রোধে এবং গ্রাহক সেবা নিশ্চিতে সরকার ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার সেবা চালু করে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি আজিমপুর সরকারি কলোনি ও আশপাশের এলাকায় প্রিপেইড মিটার সংযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এর গ্রাহকরা উন্নত সেবা তো পানই না, বরং চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
গ্রাহক তার যে কোন অভিযোগ জানাতে প্রিপেইড মিটার সরবরাহকরী কর্তৃপক্ষ ‘২৪ ঘন্টা গ্রাহক সেবা সার্ভিস’ চালু করে। বলা হয়েছে, গ্রাহক সেবার জন্য ০১৬৭২২৮১৮১৬, ০১৭৯৭২৪৫৩০৯ ও ০১৭২৩৩১৪৬৪৫ নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করার জন্য। ফোন করলে গ্রাহক তাত্ক্ষণিক সেবা পাবে।
বাস্তবে এই তিন মোবাইল নম্বরে আজিমপুর কলোনিসহ আশপাশের শত শত প্রিপেইড মিটার গ্রাহক দফায় দফায় ফোন করে সেবা তো দূরের কথা, তাদের দেখাই পান না। ফোন করলে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, আপনার সমস্যা কি বলুন। সমস্যা শোনার পর আসছি বলেই লাইন কেটে দেয় তারা। পরে আর কেউ আসে না। এমনকি ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও প্রিপেইড মিটার সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না।
কোনো কোনো ভবনে একটি মিটারে দুটি বাসার সংযোগ দেয়া হয়েছে। মিটার সংযোগ দেয়ার সময় অনেক ভবনের বাসার সামনে বিদ্যুত্ বাতির লাইন কেটে ফেলা হয়েছে। যার ফলে রাতে অন্ধকারে সিঁড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ওঠা নামা করতে হয় ভবনের বাসিন্দারের। ৮৪ নম্বর ভবনের অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গ্রাহক সেবা নম্বরে ফোন করলেও তারা বাতি পুন:সংযোগ দিতে আসেনি।
অপরদিকে প্রিপেইড মিটারগুলো দেয়ালের সাথে এমনভাবে লাগানো হয়েছে, যাতে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দেখা গেছে কোনোটা দেয়ালের সঙ্গে ঝুলছে, কোনোটা নড়বড়ে। আবার কোন কোন ভবনের মিটার চুরিরও আশংকা রয়েছে। গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারের সেবা নিশ্চিতে হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শীর্ষ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে ইত্তেফাক থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
