চিনি শিল্পের জন্য একটা সময় সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস দ্বীপ বেশ আলোচিত ছিল। ১৯৯৮ সালে ক্যারিবীয় এই দ্বীপটিতে আঘাত হানে হারিকেন জর্জেস। বিশাল ধ্বংস আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের উত্থানে ২০০৫ সালে এসে এক রকম বন্ধ হয়ে যায় অঞ্চলটির চিনি উত্পাদন। চিনি থেকে মনোযোগ সরিয়ে প্রশাসনের সকল দৃষ্টি এখন পর্যটনে। সেটা দিয়ে তারা বেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও অর্জন করছে।
সেই পর্যটনের সাম্রাজ্যেই এখন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অবস্থান। কিন্তু, ক্রিকেটারদের সামনে ক্রিস্টোফার কলম্বাস হবার সুযোগ কোথায়। ১৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের পর এতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিষ্কার আকাশ, স্বচ্ছ সাগরের পানি, সাদা বালুর সমুদ্র সৈকত — সবই তাই তাদের কাছে অর্থহীন মনে হবার কথা!
দ্বিতীয় ম্যাচের ‘ঐতিহাসিক’ লজ্জার পর এবার তৃতীয় ম্যাচ থেকে প্রাপ্তির খাতায় সামান্য কিছু হলেও যোগ করতে মরিয়া মুশফিকুর রহিমের দল। সিরিজ এরই মধ্যে লেখা হয়ে গেছে স্বাগতিকদের নামে। তবে, আজ শেষ ওয়ানডের আগে বাংলাদেশের জন্য প্রেরণা হতে পারে দু’বছর আগের স্মৃতি। ২০০৯ সালে এখানে এসে একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচে জয় নিয়েই ফিরেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়কও চাইছেন সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে, ‘এই মাঠে আমরা আগেও খেলেছি। ম্যাড়মেড়ে উইকেট, মাঠটাও খানিকটা ছোট। কিন্তু আপনি যেখানেই খেলেন না কেন কাজ তো একই রকমই করতে হবে।’
এই স্টেডিয়ামেই বাংলাদেশকে খেলতে হবে শেষ ওয়ানডে ও সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সেই দুই ম্যাচ থেকে স্বস্তি নিয়ে ফিরতে বাংলাদেশের করণীয়টাও বাতলে দিলেন মুশফিক, ‘ওদের বোলিং লাইন আপটা প্রায় একই রকমই থাকবে। আমাদের আরও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করতে হবে। বল সিলেকশনটা আগের চেয়ে আরও ভাল করতে হবে। এই ধরনের উইকেট থেকে বোলাররা খুব কমই সাহায্য পান। তাই, উইকেটটা ব্যাটসম্যানদের জন্যই এক ধরনের বাড়তি পাওয়া।’
বাংলাদেশ শিবিরের মধ্যে যেমন এক ধরনের দুর্বিষহ অবস্থা বিরাজ করছে, ঠিক বিপরীত অবস্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভাবনার দিক থেকেও বাংলাদেশের চেয়ে তারা এক ধাপ এগিয়ে। অফ স্পিনার সুনীল নারাইন এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে দেশের মাটিতে সব সময়ই আমাদেরই সহায়তা থাকবে। সেটা আগামী ম্যাচগুলোতেও ধরে রাখতে চাই। আমাদের মূল ভাবনা সব টেস্ট সিরিজকে ঘিরে। তার আগে মোমেন্টাম ধরে রাখাটা জরুরী।’
সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের আবহাওয়াটা অনেকটা বাংলাদেশেরই মত। খানিকটা গরম থাকলেও সেটা অসহনীয় নয়। বাতাস আছে, আছে বাতাসের আর্দ্রতাও। আর উইকেটের আচরণটাও নাকি খানিকটা বাংলাদেশের মতই হবে। এমনটাই জানালেন সুনীল নারাইন,‘সেইন্ট কিটসের উইকেটটা গ্র্যানাডার চেয়ে ভিন্ন। বাংলাদেশের জন্য এটা অনেকটা স্বর্গের মত। উইকেটটাও অনেকটা ওদের মতই আচরণ করবে।’
মানসিক ভাবে এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশই সর্বোচ্চ ১৬ বার শত রানের নিচে অলআউট হয়েছে। এবার সেইন্ট কিটসে বদলাবে ভাগ্য। সুনীল নারাইন অন্তত তেমনটাই আভাস দিলেন, ‘আমার মনে হয়, হাই-স্কোরিং একটা ম্যাচ হবে।’
তাহলে অন্তত ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে মিলবে মুক্তি!
