ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে পঞ্চগড় জেলার আহমদনগরে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তিনদিন ব্যাপী ৯৭তম জলসা শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ২টায় বিশ্বের বর্তমান সংঘটময় পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার ও শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে জলসার সমাপ্তি ঘটে। জলসার কার্যক্রম শুরু হয় ১১মার্চ শুক্রবার ২০২২ বিকাল ৩টায় জাতীয় পতাকা ও আহমদীয়া জামা'তের সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এ সময় সকলে দাঁড়িয়ে পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পতাকা উত্তোলনের পর মোনাজাত করা হয়। সালানা জলসার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করেন আহমদীয়া ন্যাশনাল আমীর আলহাজ মওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী।
বিগত প্রায় শত বছর যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত শান্তিপূর্ণভাবে বার্ষিক জলসা করে আসছে। আহমদীয়া সদস্যদের আত্মিক উন্নতি, তাকওয়া, খোদাভীতি, পরহেযগারী, সহানুভূতি, পারস্পরিক ভালবাসা ও ভ্রার্তৃত্ববোধ, দেশপ্রেম, নম্রতা, বিনয় ও সততা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ জলসার আয়োজন করা হয়।
জলসায় আল্লাহতায়ালার মহান অস্তিত্ব এবং তার সান্নিধ্য লাভের উপায়, পবিত্র কুরআনের অতুলনীয় সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য এবং শ্রেষ্ঠত্ব, খাতামান্নাবেঈন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আহমদীয়া খেলাফতের অনন্যসাধারণ ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তাগণ বক্তব্য রাখেন।
১৩ মার্চ শেষ অধিবেশনে আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশের ন্যাশনাল আমীর খেলাফতের ছত্রছায়ায় বাংলাদেশে আহমদীয়াতের উপর আল্লাহতালার করুনা ও আশীষ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বাংলাদেশে আহমদীয়া জামাতের অগ্রগতির বিভিন্ন বিভাগের বিগত এক বছরের রিপোর্ট তুলে ধরেন। শেষে তার দোয়ার মাধ্যমে জলসার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। জলসা উপলক্ষ্যে ৬৯ ভাষায় অনুবাদকৃত পবিত্র কুরআনের বিরল এক প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
পঞ্চগড় শহরের উপকণ্ঠে আহমদনগর ও শালসিঁড়ি আহমদীয়া অধ্যুষিত দু’টি গ্রামের মাঝখানে দেয়াল ঘেরা নিজস্ব জমির ওপর আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের ঐতিহ্যবাহী ৯৭তম জলসায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্যও রাখেন।
জলসা সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
