কাঠের আসবাবপত্রে ফুল তোলেন যারা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ১৮:২৫

কাঠের আসবাবপত্র কমবেশি সবার প্রিয়। এখন শহর গ্রাম বলে কোনো কথা নেই। সর্বত্রই আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে। আর এসব আসবাবে কারুকাজও করা হচ্ছে। যারা কাঠের ওপর কারুকাজ করে থাকেন তাদের সাধারণভাবে ফুলমিস্ত্রি বলা হয়ে থাকে। 

বর্তমানে খাট, পালং, বক্স খাট, সোফা, কাঠের আলমারি, ওয়ারড্রব, চেয়ার, টেবিল, আলনা এমনকি কাঠের তৈরি টুল বা পিঁড়িতেও কারুকাজ করা হয়। আর যে যত বেশি নিখুঁত কারুকাজ করতে পারেন তার কদরও তত বেশি থাকে। 

কাপ্তাই উপজেলাসহ আশপাশের অনেক উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। এসব ফার্নিচারের দোকানে প্রতিদিন বেশ কয়েক জন মিস্ত্রি দিনরাত কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করে থাকেন। 

সম্প্রতি ইসমাইল হোসেন নামক এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী এই প্রতিনিধিকে বলেন, আসবাবপত্র অনেকেই তৈরি করতে পারেন। কিন্তু কাঠের ওপর কারুকাজ করা সহজ কাজ নয়। যারা আসবাবপত্রে কারুকাজ করেন তাদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাদের বেশি পারিশ্রমিক দিয়ে দোকানে রাখতে হয়। 

কাঠের ওপর সাধারণত কি ধরনের কারুকাজ করা হয় জানতে চাইলে ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান জানান, কাস্টমাররা যা পছন্দ করেন তাই কাঠের ওপর খোদাই করতে হয়। অনেক কাস্টমার আসবাবপত্রে ফুল চান, কেউ চান প্রজাপতি, কেউ ময়ূর, কেউ শাপলা, অনেকে দোয়েল, কবুতর, হরিণ, সিংহ এবং কেউ কেউ বাঘের মাথাও আসবাবপত্রে খোদাই করতে চান। আবার অনেকে কোনো মানুষের ছবিও কাঠের ওপর খোদাই করার আগ্রহ দেখান। এক জন দক্ষ ফুলমিস্ত্রি যে কোনো কাঠের ওপর বা যে কোনো আসবাবপত্রের ওপর গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী খোদাই করতে পারেন। এক জন দক্ষ ফুলমিস্ত্রির বেতন ১ লাখ টাকাও হতে পারে বলে জানা গেছে। 

ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. মনছুর জানান, বর্তমানে দক্ষ ফুলমিস্ত্রি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ নতুন করে কেউ ফুলমিস্ত্রির কাজ শিখতে চাচ্ছেন না। অনেকে এই কাজকে তুচ্ছ কাজ হিসেবে বিবেচনা করেন। যে কারণে চাহিদা থাকলেও দক্ষ ফুলমিস্ত্রি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক ফার্নিচার ব্যবসায়ী জানান। 

 

 

ইত্তেফাক/এআই