গরমে প্রশান্তির পরশ পেতে শীতল পাটির জুড়ি নেই। তাই গরম আসলে কদরও বাড়ে সিরাজগঞ্জে উৎপাদিত বিখ্যাত শীতল পাটির। এখানে তৈরি শীতল পাটি দেশ-বিদেশ গেলেও পুঁজির অভাবে এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় এখনও প্রায় শতাধিক পরিবার তাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কিন্তু বেতের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরী, পাশাপাশি পুঁজির অভাবে আজ এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে।শুধু কামারখন্দ নয় জেলা সদর ও রায়গঞ্জেও সমারোহে শীতল পাটি তৈরি করা হয়। সবই আজ হুমকির মুখে।
পাটিশিল্পের কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বহুকাল ধরেই দেশে বিদেশে এ জেলার শীতল পাটি সমাদৃত হয়ে আসছে। এখানকার মুর্তাবেতির শীতল পাটির চাহিদাও প্রচুর।
পাইত্রা মুর্তা (স্থানীয়ভাবে পাটি বেত) নামে এক ধরণের বর্ষজীবী উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে বেতি তৈরি করা হয়। পরিপক্ক পাটিগাছ কেটে পানিতে ভিজিয়ে তারপর পাটির বেতি তোলা হয়। এরপর ভাতের মাড় ও পানি মিশিয়ে বেতি জ্বাল দেওয়া হয়। এর ফলে বেতি হয়ে ওঠে মসৃণ ও সাদাটে। বেতির ওপরের খোলস থেকে শীতল পাটি পরের অংশ তুলে বুকারপাটি এবং অবশিষ্ট অংশ চিকন দড়ি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে কামারখন্দ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এরা সবাই পাটি বুনে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ গ্রামের মানুষ জমিতে মুর্তা বাগান করে বিক্রি করেছেন ও তা দিয়ে নিজেরা পাটি তৈরি করে আসছেন কয়েক শত বছর যাবত। এখানে শীতল পাটি, নামাজের পাটি ও আসন পাটি নামে তিন ধরনের পাটি তৈরি করা হয়।
প্রায় ৯০ বছর বয়সী দুলাল চন্দ্র ভৌমিক ছোটবেলা থেকে তৈরি করে আসছেন এ শীতল পাটি। তিনি জানান, শীতল পাটি তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। বাবা-দাদারা পাটি বুনতেন। তাদের দেখে এ পেশায় জড়ান।
তিনি বলেন, ‘এক সময় শীতল পাটির খুব কদর ছিল। তাদের কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার আসতো। অনেক পাইকাররা তাদের থেকে পাটি ক্রয় করে নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রী করতেন। এখনও তাদের শীতল পাটির কদর পুরো দেশজুড়ে রয়েছে।’
চাঁদপুরের শ্রীমতি স্বপ্না রানী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে পাটি বুনে আসছি। সপ্তাহে একটি পাটি বুনার মজুরী আসে ৫/৬শ টাকা।’
এ ব্যপারে পাটি শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লু চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আজ পুঁজির অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। করোনার আগে সোনালী ব্যাংক থেকে আমাদের লোন দেওয়া হলেও করোনাকালীন সময়ে বেচা-বিক্রী না থাকায় পুঁজি ভেঙ্গে খাওয়ায় আমরা এখন দেওলিয়া হয়ে গেছি। অনেকেই এই পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। যারা আছে তারা ঋণে জড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্দ্যোগ না নিলে এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

