প্রথম দিনে পূর্ব সুন্দরবনে যাত্রা করেননি মৌয়ালরা

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২২, ১৩:১৭

মধু সংগ্রহের আগাম মৌসুম শুরুর প্রথম দিন মঙ্গলবার পূর্ব সুন্দরবনে যাত্রা করেনি মৌয়ালরা। এখন বনে গেলে কাঙ্ক্ষিত মধু পাওয়া যাবে না এমন ধারণা মৌয়ালদের (মধু সংগ্রহকারী)। এ বছর ১৫ মার্চ আগাম মধু আহরণ মৌসুম শুরুর তারিখ ঘোষণা করে বন বিভাগ। অন্যান্য বছর পহেলা এপ্রিল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হতো। 

শরণখোলার উত্তর সাউথখালী গ্রামের মৌয়াল বাদশা শেখ, খুড়িয়াখালী গ্রামের রতন মোল্লা, সোনাতলা গ্রামের নুর ইসলাম তালুকদার, বগী গ্রামের মাহাবুল হোসেন বলেন, আমরা বন বিভাগের পাশ নিয়ে প্রতি বছর ১ এপ্রিল মধু আহরণের জন্য ৫০/৬০ টি নৌকায় প্রায় সহস্রাধিক মৌয়াল সুন্দরবনে যাত্রা করি। এ বছর সুন্দরবন বিভাগ ১৫ মার্চ থেকে মধু সংগ্রহের আগাম মৌসুম শুরুর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বন বিভাগের এই সিদ্ধান্ত মৌয়ালদের অনুকূলে নয়। এখন বনে কাঙ্ক্ষিত মধু পাওয়া যাবে না অনেক গাছে। এখনো মধুর চাক পুরোপুরি তৈরি হয়নি বলে ঐ মৌয়ালরা জানান। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পহেলা এপ্রিল থেকে বনে পর্যাপ্ত মধু পাওয়া যাবে। তাই মৌয়ালরা আগের নিয়মে ঐ সময়ে সুন্দরবনে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

বন বিভাগ জানায়, সুন্দরবন থেকে মধু উৎপাদন ও এ থেকে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হলেও এ বছর ১৫ মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত মৌয়ালরা সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে পারবেন। একশ্রেণীর লোক বন থেকে অবৈধভাবে মধু সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ায় এবার আগাম মধু সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। 

শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সুন্দরবনে মধু আহরণের জন্য ১৫ মার্চ পর্যন্ত কেউ অনুমতিপত্র (পাশ) গ্রহণ করেননি। পূর্ব বনবিভাগের অন্যান্য স্টেশন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোনো মৌয়াল মধু সংগ্রহের পাশ গ্রহণ করেননি। 

পূর্ব সুন্দরবনের বন বিভাগের বিভাগীয় বন-কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মৌয়ালরা যাতে বেশি মধু সংগ্রহ করতে পারেন, সেজন্য এ বছর মধু আহরণ মৌসুম ১৫ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে এবং মৌয়ালদের ১৫ মার্চ থেকে আগাম মধু সংগ্রহের পাশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। 

ইত্তেফাক/এআই