বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিতে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় এমআইএস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার আফরোজা সুলতানাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলাকেটে হত্যা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাড্ডা এলাকা থেকে তার গাড়িচালক হৃদয় ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি, লুট করা স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার।
তিনি বলেন, আফরোজাকে হত্যা করে ভিকটিমের বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিতে হৃদয় ব্যাপারী এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
হাফিজ আক্তার বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের গুলশান জোনাল টিমও তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে রাজধানীর মধ্যবাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হৃদয়ের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিবি প্রধান বলেন, অফিস থেকে ফেরার পরে ড্রাইভার মাথা ব্যথা করছে বলে আফরোজা সুলতানার কাছে চা খাওয়ার কথা বলে বাসায় ঢোকে হৃদয়। পরে এক ফাঁকে চায়ের মধ্যে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয় আফরোজাকে। ড্রাইভার হৃদয় মূলত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
তিনি বলেন, গ্রেফতার গাড়িচালক মো. হৃদয় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন। সে ২০০৫ সালে গাড়ি চালানো শিখে বিভিন্ন জায়গায় চালক হিসেবে কাজ করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সাল থেকে আফরোজা সুলতানার গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। হৃদয় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এরইমধ্যে তার তিন মাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে। বেশ কিছু টাকা উপার্জন করে দূরে কোথাও গিয়ে অন্য ব্যবসা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত থেকেই আফরোজা সুলতানার বাসায় চুরির পরিকল্পনা করেন। এরপরই তাকে হত্যা করে বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করেন। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
