রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নিকট পরিচয়পত্র প্রদান শেষে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি. হাস।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতির নিকট পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস অশ্বারোহী দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। সেনাবাহিনীর ব্যান্ডের দ্বারা সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় সংগীতও বাজানো হয় এবং রাষ্ট্রদূত গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং এই চমৎকার সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে এটি এখন কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ও তাদের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে নিজ দেশে সসম্মানে ফিরে যেতে পারে সে জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান ।
সেই সঙ্গে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, আমি এইখানে (বাংলাদেশ) আমার দায়িত্ব শুরু করতে পেরে খুবই আনন্দিত। রাষ্ট্রপতির কাছে আমি আমার পরিচয়পত্র পেশ করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর জন্য আমি রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আরও বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহুবিস্তৃত ও গতিশীল। অর্থনৈতিক বিষয়াদি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা আমাদের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ব্যপ্তিকে তুলে ধরে। সরকারি কাজের বাইরে আমাদের দুইদেশের বন্ধনের মধ্য দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। একসাথে আমরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে আরও উন্মুক্ত, আরও নিরাপদ ও আরও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি উভয় দেশের জনগণের জন্যই বৃহত্তর সমৃদ্ধি অর্জন করেছি। এ বছর আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বের ৫০ তম বার্ষিকী। আমার মেয়াদকালটি আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করা এবং আগামী ৫০ বছর বা আরও দূর ভবিষ্যতে আমাদের সম্ভাব্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবো।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পিটার হাস একজন পেশাদার কূটনীতিক। এর আগে তিনি মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি লন্ডন, বার্লিন, জাকার্তা ও ওয়াশিংটনে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাসকে চূড়ান্ত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় যোগ দেওয়ার আগে পিটার হাস মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থনৈতিক ও ব্যবসা বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সৌজন্যে সাক্ষাৎ কালে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিকসচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান।
