কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কাশিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ওয়াশ ব্লকে সেপটিক ট্যাংকের মুখ খোলা থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ট্যাংকের কাজ দুই মাস আগে শেষ হলেও এখনো লাগানো হয়নি ঢাকনা, এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে এমনটি দেখা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণাধীন ওয়াশ ব্লকের সেপটিক ট্যাংকের কাজ শেষ হলেও মুখে ঢাকনা না দিয়ে মুখ খোলা রেখেই ধীরগতিতেই কাজ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, স্কুল চলাকালীন যেকোনো সময় ওয়াশ ব্লকের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে কমলমতি শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের মুখে ঢাকনির ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রীতা ও নুরজাদি জানায়, ট্যাংকের মুখ খোলা থাকায় খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা কাছে না গেলেও আমাদেরও অনেক ভয় লাগে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তো ছোট। তাদের যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার ঘটতে পারে। তাই আমরা বিষয়টি স্যারকে জানিয়েছি।
স্থানীয় রানা মিয়া ও দীপু চন্দ্র সরকার জানান, সেপটিক ট্যাংকের মুখ খোলা থাকায় যেকোনো সময় সেপটিক ট্যাংকে পড়ে শিক্ষার্থীদের বড় দুর্ঘটনার ঘটতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। সেইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংকের মুখে ঢাকনির ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানান তারা।
বিষয়টি নিয়ে কাশিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরেশ চন্দ্র সরকার জানান, সেপটিক ট্যাংকের মুখ খোলা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে। তাই বিষয়টি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে।
কাশিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহাব উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের মুখ খোলা অনেক দিন আগে দেখেছি। এটা খুবই ঝুঁকি। আমি এখনই প্রধান শিক্ষককে সেপটিক ট্যাংকের মুখ বন্ধ করার জন্য জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানান, ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ওয়াশ ব্লকের কাজ চলছে। সেপটিক ট্যাংকের ঢালাইয়ের কাজ শেষ। দ্রুত ট্যাংকের ঢাকনা লাগানো হবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হৃদয় কৃষ্ণ বর্মন জানান, বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা দ্রুত লাগানোর জন্য এখনই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে জানানো হচ্ছে।
