ইউক্রেন সংকট শরণার্থীদের নিয়ে ‘নেতিবাচক’ দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেবে: জাতিসংঘ

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২২, ০৮:০০

ইউক্রেনের শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর এগিয়ে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা। সেই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য যুদ্ধকবলিত অঞ্চলের শরণার্থীদেরও ধর্ম-বর্ণ ও জাতীয়তা- নির্বিশেষে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাশিয়া আগ্রাসন শুরু করার পর গত তিন সপ্তাহে ইউক্রেন ছেড়ে পালানো শরণার্থীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে চলা শরণার্থী সংকটে পরিণত হয়েছে। শরণার্থীদের একটি বড় অংশকেই প্রতিবেশী দেশগুলো আশ্রয় দিয়েছে এবং তাদের সাময়িক আবাস ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। শরণার্থীদের আরেকটি অংশ আরো পশ্চিমের দিকে যেতে শুরু করেছে। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় যুদ্ধের সময় শরণার্থীদের ঢেউ যখন ইউরোপে যাচ্ছিল, পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া তখন ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ইউরোপের দেশগুলো শরণার্থীদের ঐ ঢলের বড় অংশকেই আটকে দিয়েছিল গ্রিস ও তুরস্ক সীমান্তে। সেই যুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বর্ণবিদ্বেষ ও বৈষম্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। সেই অবস্থায় ইউক্রেনের এই সংকট শরণার্থীদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববার সুযোগ করে দিয়েছে। 

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ক্যাথরিন ম্যাহনি বলেন, ‘যারা আশ্রয় চায়, তাদের সবার জন্য প্রবেশাধিকারের পক্ষে সুপারিশ চালিয়ে যাবে ইউএনএইচসিআর। সিরিয়া, ইয়েমেন, ইথিওপিয়াসহ অন্য দেশের এবং অঞ্চলের আশ্রয়প্রার্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত।’ শরণার্থী নীতি নিয়ে ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সংস্থা। এর মধ্যে, ‘পুশব্যাক’ চর্চা বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য যুদ্ধকবলিত অঞ্চলের শরণার্থীদেরও ধর্ম-বর্ণ ও জাতীয়তা-নির্বিশেষে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি