শাবান মাস রমজানুল মুবারকের প্রস্তুতি নেওয়ার মাস। এই মাসে যারা যথার্থভাবে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, তাদের জন্য রমজানের বরকত ও কল্যাণ পুরোপুরিভাবে অর্জন করা সহজ হয়ে যায়। আমরা শাবান মাসে রমজানের প্রস্তুতিমূলক পাঁচটি আমলের বিষয়ে আলোকপাত করব ইনশা আল্লাহ।
১. দিন গণনা: রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা রমজানের (প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে) শাবানের দিনগুলো গণনা করতে থাকো। (মুসান্নেফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস :৭৩০৩, সুনানে তিরমিজি, হাদিস :৬৭৮, আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস :৮২৪২)।
২. অধিক পরিমাণে রোজা রাখা: শাবান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে, এই মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখা। এতে করে রমজানের রোজার প্রাথমিক অনুশীলন চমৎকারভাবেই সম্পন্ন হয়ে যাবে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাসে অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন।
৩. প্রচুর পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করা :শাবান মাসে প্রচুর পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। এতে করে অন্তরে ইমানি শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আর ইমানি শক্তি বৃদ্ধি পেলে আমল করা সহজ হবে। এছাড়া হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, হুজুরে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লোহায় পানি লাগলে যেরূপ মরিচা পড়ে, অনুরূপ মানুষের কলবের (অন্তরের) মধ্যেও মরিচা পড়ে যায়। কেউ জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রসুলুল্লাহ! এটা পরিষ্কার করার উপায় কী? হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বলেন, মৃতু্যকে বেশি করে স্মরণ করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা। (বায়হাকির সূত্রে মিশকাতুল মাসাবিহ-২১৬৮)
৪. নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা :শাবান মাসে অধিক পরিমাণে নফল ইবাদতে আত্মনিয়োগ করা উচিত। তাহাজ্জুদ, ইশরাক নামাজসহ যাবতীয় নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া শাবান মাসের একটি অন্যতম দাবি। এতে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক গভীর হয়।
৫. অধিক পরিমাণে দান-সাদাকা করা :শাবান মাসে অধিক পরিমাণে দান-সাদাকা করা উচিত। এতে সমাজের গরিব অসহায় মানুষ অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হবে। ফলে রমজানে তাদের অর্থকষ্ট খানিকটা হলেও লাঘব হবে। দান-সাদাকা আল্লাহ তায়ালার কাছে অনেক পছন্দনীয় একটি আমল। ইরশাদ হয়েছে, যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাত্রে ও দিনে, গোপনে ও পÌকাশ্যে। তাদের জন্য সওয়াব রয়েছে তাদের পালনকর্তার কাছে। তাদের কোনো আশঙ্কা নেই এবং তারা চিন্িততও হবে না। (সুরাতুল বাকারা-২৭৪) তাই আসুন, শাবান মাসে উপরোক্ত আমলগুলো সম্পাদন করে পবিত্র রমজানুল মুবারকের প্রস্তুতি গ্রহণ করি।
—লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম।
খতীব, আউচপাড়া জামে মসজিদ, টঙ্গী, গাজীপুর
