ঈশ্বরদীতে লিচু ফুল থেকে ২৬ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মৌয়ালরা মাঠে নেমেছে। লিচু বাগানগুলো জুড়ে স্থাপিত হয়েছে হাজারো মৌ-বাক্স। সারি সারি সাজানো ঘর আকৃতির কাঠের তৈরি ছোট ছোট বাক্স। লিচু ফুল থেকে মধু আহরণের পর মৌমাছি ছুটছে আপন নীড়ে। মৌয়ালরা এক সপ্তাহ পর শুধু ঈশ্বরদী উপজেলায় লিচু ফুল থেকে ২৬ হাজার কেজি মধু বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে সংগ্রহ করবেন মৌয়ালরা। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) ঈশ্বরদী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লিচু বাগানগুলো ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে লিচুবাগান রয়েছে ১১ হাজার ২৫৮টি। মধু সংগ্রহের জন্য মৌয়ালরা মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন ৬ হাজার ৫০০টি। বাগান ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি লিচু-বাগানে ১৫০টি করে বাক্স রয়েছে।
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা থেকে মধু সংগ্রহ করতে রূপপুর গ্রামে আসা হাফিজুল ইসলাম হাফিজ বলেন, একটি লিচু-বাগানে ২০০ বাক্স রেখেছি। মৌমাছিরা ঝাঁক বেঁধে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে নিজ নিজ বাক্সের ভেতরে এসে মধু জমা করে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা আব্দুল হাই জনান, প্রতি বছর আমরা মধু সংগ্রহ করতে আসি। সেরা বাগান থেকে আমরা মধু সংগ্রহ করি। যে বাগানে ফুল বেশি, তেমন বাগানে বাক্স বসাই। মৌমাছির চাকগুলোর বাক্স প্রথমে বাগানে রেখে দেওয়া হয়। প্রতিটি লিচুর বাগানে দেড়শ বাক্স রাখা রয়েছে। লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করার পর মৌমাছিরা বাক্সের ভেতরে চাকে মধু জমা করে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বাক্সে পাঁচ কেজি মধু জমা হয়।
লিচু-চাষি কিতাব মণ্ডল জানান, লিচুর মুকুল থেকে মৌমাছিরা যদি মধু সংগ্রহ করে, তাতে পরাগায়ন হলে লিচুর ভালো ফলন হয়। ফলে কীটনাশক তেমন দরকার হয় না। তাই বিনা মূল্যেই মৌয়ালদের মৌমাছির বাক্স বাগানে বসাতে দেই।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার জানান, লিচু ফুল ও মুকুলে মৌমাছি বসলে পরাগায়ন ভালো হয়, রোগবালাইও অনেকটা কম হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক বাগানে গুটি আসার পর কীটনাশক দরকার হয় না। এতে ঐ লিচু-বাগানে বাম্পার ফলন হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে। এতে লিচুর যেমন বাম্পার ফলন হয়, তেমনি মধুও উৎপাদন হয় ভালো।
তিনি আরও বলেন, লিচু-বাগানে সাড়ে ৬ হাজার মৌবাক্স স্থাপন করেছেন মৌয়ালরা। প্রতিটি বাক্সের ১০টি ফ্রেমে অর্ধ-লক্ষাধিক মৌমাছির উপস্থিতি রয়েছে।
