বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামি-দামি ব্র্যান্ডের পোশাকের পসরা নিয়ে রাজধানীর পলওয়েল সুপার মার্কেটে চলছে ঈদের কেনাকাটা। এই মার্কেটে যৌক্তিক দামে বিদেশি পণ্য ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে। যেখানে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারতের হাল ফ্যাশনের নারী, পুরুষ ও শিশুদের আইটেম পাওয়া যাচ্ছে।
ভিনদেশি এসব পণ্যের জন্য এর আলাদা সুনামও রয়েছে। মানুষের ভিড় হলেও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি বলে মার্কেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এখন রমজানের শেষের দিকে ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
পলওয়েল দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ বি এম সালাউদ্দিন বাশার বলেন, বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিক্রি কম হচ্ছে। আসলে মনে হয় মার্কেটে ক্রেতাই কম। এর কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। হোল সেলও তুলনামুলক কম। সার্বিকভাবে বাইরেও মনে হয় ভালো বিক্রি হচ্ছে না। আগে দেখা যেত ২৭ রোজা বা ৩০ রোজাতেও বিক্রেতেরা আসে। কিন্তু এখন সেটা দেখা যাচ্ছে না। ভালো বিক্রি হলে তো তারা আসতেন। সেকেন্ড টাইম হোল সেল হচ্ছে না।
বিক্রি কিভাবে বাড়ানো যায় সে প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরাও চিন্তা করছি। ৪০ পার্সেন্ট মানে অনেক কম।
তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য বেশি বিক্রি, কম মুনফা। আর বিক্রিকে টার্গেট করে আমরা ঈদের আগে প্রস্তুত থাকি। আমাদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি দেখছি না। কাস্টমারই কম মনে হয়। আমরা সর্বোচ্চ ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা মুনাফা করি।
জিন্স, গ্যাবার্ডিন, থাইল্যান্ডের পোশাক, ইন্ডিয়ান প্যান্ট, শার্ট, টিশার্ট আছে। এসব বরাবরই ভালো বিক্রি হয়।
আমাদের নানা বৈচিত্র্যের পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে। প্রতিবারই ঈদের আগে আমরা ক্রেতাদের চহিদা, পোশাকে ক্রেতার রুচি ও আবহাওয়াকে লক্ষ্য রেখে কালেকশন করি। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।তিনি বলেন, আমাদের কাছ থেকে মধ্যবিত্তরেই ক্রয় করে বেশি।
তবে রমজানের শেষ কয়েকটা দিন বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা বিক্রেতাদের। নীচ তলাতে জুতা আছে। মহিলাদের আইটেমও পাওয়া যাচ্ছে। দিনে দিনে আরো গুছিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পলওয়েল মার্কেটের নিচতলা ও দোতলার দোকানগুলোতে সাধারণত খুচরা বিক্রি হয়। তৃতীয় তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত রয়েছে পাইকারির পাশাপাশি খুচরা বিক্রির ব্যবস্থা। প্রথম দু’টি ফ্লোরে রয়েছে নারী-পুরুষ ও শিশু আইটেমের সমাহার। তৃতীয় তলা থেকে দোকানগুলো বেশিরভাগই বিশেষায়িত। যে দোকানে প্যান্ট বিক্রি হয়, তারা শুধু প্যান্টই বিক্রি করেন। আবার যারা জুতা তুলেছেন, তারা জুতাই বিক্রি করেন।

পলওয়েল মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবছরের মতোই ছিমছামভাবে সাজানো হয়েছে মার্কেটটি। রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
টাকা দিয়ে পণ্য সামগ্রী কিনে ক্রেতাদের যাতে ঠকতে না হয়, সেদিকে রয়েছে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর। মার্কেটের কোনো দোকান বিদেশি ব্র্যান্ডের নকল পণ্য বিক্রি করলে, প্রমাণ সাপেক্ষে সেই দোকানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রয়েছে জরিমানার ব্যবস্থা।
আরো পড়ুন: কাজ তো করেই ফেলেছেন, এখন খালেদা জিয়াকে কারামুক্তি দেন: মোশাররফ
পলওয়েল মার্কেটে মূলত শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের হাল ফ্যাশনের পোশাকই পাওয়া যাচ্ছে বেশি। ছোট-বড়দের থ্রি পিস, শর্ট ও লং লেহেঙ্গা, বোম্বের পাঞ্জাবি, পাকিস্তানি থ্রি পিস, ছেলেদের শার্ট, জুতা, কেডস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মেয়েদের জুতা-স্যান্ডেলও আছে।
রক ল্যান্ডসে পাওয়া যাচ্ছে তরুণদের যাবতীয় হাল ফ্যাশনের পোশাক, কেডস, বেল্ট, টিশার্ট, শর্ট শার্টসহ যাবতীয় সামগ্রী। এখানে ১২০০ থেকে ১৬০০ ও ২০০০ টাকা। ইন্ডিয়ান জিন্স ১৬০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে বিদেশি জিন্স পাওয়া যাচ্ছে।
নিপ্রীতা এন্টারপ্রাইজ দোকানের বিক্রেতা বলেন, ঈদকে লক্ষ্য রেখে নতুন পোশাকের সংগ্রহ আছে তাদের। ইন্ডিয়ান প্যান্ট পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। চীনের একই পোশাক সেখানে ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। ইন্ডিয়ান শার্টের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে।
থ্যাইল্যান্ড, ইতালি, জার্মানির মূল ব্র্যান্ডের শার্ট ও টি-শার্টের দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। এসব পোশাকের সর্বোচ্চ দাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আরমানি ব্র্যান্ডের শো রুম আছে, সেখানে অনেক দামি পোশাক পাওয়া যায়।
ইত্তেফাক/এমআই
