বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন কাল, চলছে শেষ মুহুর্তের হিসেব নিকেষ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২২, ১১:৫২

আগামীকাল রবিবার (২০ মার্চ) বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নির্বাচন । ১৫ হাজার সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হবে নেতৃত্ব। এবারের নির্বাচনেই সর্বোচ্চ ছয়টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারের সর্বত্রই এখন আলোচনা কে জিতবে। তবে অতীতের ভাল মন্দ হিসেব করেই ভোট দিতে প্রস্তুত শিক্ষা ক্যাডার সদস্যরা।

এবারের নির্বাচনে আজমতগীর-জাফর প্যানেল, তৌফিক-মাসুদ রানা প্যানেল, শাহেদ-রেহানা প্যানেল, সরফরাজ-বাশার প্যানেল, নোমানি-শওকত প্যানেল, লাল-সবুজ প্যানেল এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। তবে সরফরাজ-বাশার প্যানেলের বেশিরভাগ সদস্যের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় তারা ভোটের মাঠে নেই।

ভোটের মাঠে আলোচনায় আছেন আজমতগীর-জাফর প্যানেল। এই প্যানেলে সভাপতি পদে রয়েছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর ও মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন সৈয়দ জাফর আলী। অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক মহাসচিব, সহসভাপতিসহ একাধিক দায়িত্ব পালন করেছেন আর মহাসচিব প্রার্থী মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর আলী স্বাধীনতা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সংসদেরও সদস্য সচিব। যুগ্ম মহাসচিব প্রার্থী হয়েছেন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার এছাড়া বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ এবং সিনিয়র-জুনিয়ররাই আজমতগীর-জাফর প্যানেলের প্রার্থী। যাদের সমর্থন দিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মাসুমে রাব্বানী খান এবং অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।

অপরদিকে আলোচনায় আছেন শাহেদ-রেহানা প্যানেলে সভাপতি প্রার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী। যিনি সমিতির সাবেক মহাসচিব। এ কারণে অতীতের চাওয়া পাওয়ার হিসাব মিলাচ্ছেন ভোটাররা। গত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের সাড়ে তিন বছর পরও নির্বাচন না হওয়ার পেছনে তাকেই দায়ি করেন শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা। মাউশি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক পদে থেকে সমিতির সভাপতি প্রার্থী পদে নির্বাচন করা নীতি-নৈতিকতা বিরোধী বলেও মত অনেকের। আর ইডেন মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোছা. রেহেনা পারভীন এই প্যানেলের মহাসচিব প্রার্থী। তবে এই প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় নির্বাচনে সেই প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা।

আমতগীর-জাফর প্যানেলের মহাসচিব প্রার্থী সৈয়দ জাফর আলী বলেন, বিভিন্ন কলেজে আমাদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রার্থী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। যা নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন। তবে এ বিষয়ে শাহেদুল খবির চৌধুরীকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছে সভাপতি প্রার্থী অলিউল্লাহ মো. আজমতগীর এবং শাহেদুল খবির চৌধুরীর সাম্প্রতিক একটি তদন্ত নিয়ে। মাউশির কয়েকহাজার পদে নিয়োগ চলছিল। ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন  শাহেদুল খবির চৌধুরী। আর এই নিয়োগ নিয়েই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। সে আলোকে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীরকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত চলেও দুদিন। যদিও শেষ পর্যন্ত ওই তদন্ত শেষ করা যায়নি। একই সাথে ‘তদন্ত কর্মকর্তা’ ও ‘যার বিরুদ্ধে তদন্ত’ যখন সভাপতি প্রার্থী এবং নির্বাচনের মাঠে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী-এটাই আলোচনার বিষয়।

অন্যদিকে নোমানি-শওকত প্যানেলের মহাসচিব প্রার্থী মো. শওকত হোসেন মোল্যা ভিন্ন ঘরনার রাজনৈতিক মতাদর্শের। তারাও নির্বাচনে জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আলোচনায় রয়েছে, জয়ের জন্য শাহেদ-রেহানা প্যানেল কাছে টানছেন নোমানি-শওকত প্যানেলকে।

অন্যদিকে শিক্ষা ক্যাডারের তরুণ সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে লাল-সবুজ প্যানেল। তারা অল্প সংখ্যক পদে প্রার্থী দিয়েছেন। সভাপতি ও মহাসচিব পদে তাদের কোনো প্রার্থী নেই। তবে এই প্যানেলের প্রার্থী মাউশি অধিদপ্তরের শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক) চন্দ্র শেখর হালদার। তিনি জানান, অতীতের যারা ভুল নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের বাইওে গিয়েই প্রার্থী হয়েছি। শিক্ষা ক্যাডারের দাবি আদায়ে আমরা সবসময় সদস্যদের পাশে থাকবো বলে তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/ ইআ