পুলিশী তৎপরতায় বাঁচলো ৩ প্রাণ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২২, ০৭:১৩

স্ত্রীকে ফিরে না পেয়ে দুই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন এক যুবক। এজন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিরবাজার থেকে তিন জনের জন্য কাফনের কাপড়ও কেনা হয়। পরিকল্পনা ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ভাড়া বাসায় গিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবেন ঐ যুবক। তবে এর আগে তিনি নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে উদ্দেশ্য করে নিজের আত্মহত্যার কথা জানিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু লাইভে এমন দৃশ্য দেখে কেউ একজন বিষয়টি জরুরী সেবা ৯৯৯-এ জানায়। পরে ৯৯৯ থেকে সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সুকান্ত দত্ত লাইভে আসা যুবকটির ফেসবুক আইডি থেকে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। এবং জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) নাজমুল হাসান ও ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামানের পরামর্শে যুবকটির সঙ্গে কথা বলেন। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট যুবকটির সঙ্গে কাউন্সেলিং করে তাকে আত্মহত্যার পথ থেকে সরে আসার অনুরোধ করে কৌশলে তাকে থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে যুবকটির শ্বশুর, শাশুড়িসহ স্ত্রীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রায় চার ঘণ্টা কাউন্সেলিং করে সমঝোতা করে স্বামী-স্ত্রীকে শ্বশুর-শাশুড়ির নিকট তুলে দেওয়া হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সুকান্ত দত্ত জানান, গত শুক্রবার ভোরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ সংবাদ আসে যে এক যুবক লাইভে এসে সন্তানসহ আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। পরে ফেসবুক আইডির লিংকটি সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে সংগ্রহ করা হয় যুবকের মোবাইল নম্বর। সেই নম্বরে যুবকের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কাউন্সেলিং করে তার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার প্রস্তাব দিলে দুই সন্তান নিয়ে যুবক চলে আসে ফতুল্লা থানায়। অপরদিকে স্ত্রীসহ যুবকের শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে আসা হয় ফতুল্লা থানায়। সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা আলোচনা শেষে রাত ১১টার দিকে শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রীর সঙ্গে যুবকের সমঝোতা করে দেওয়া হয়।

লাইভে আসা যুবক জানায়, ১০ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সি একটি ছেলে ও ৯ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যায়। গত কয়েক দিন পূর্বে সে জানতে পারে তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। সেটা জানতে পেরে সে তার শ্বশুরের দ্বারস্হ হলে শ্বশুর তাকে চড়-থাপ্পড় মেরে তাড়িয়ে দেয়। এতে সে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়ারিও করেছিলেন। কিন্তু স্ত্রীকে ফিরে পাবার কোন আশা না পেয়ে তিনি দুই সন্তানসহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান জানান, তার কর্মজীবনের সবচেয়ে রিস্কি দিন ছিল এটা। মেধার সবটুকু দিয়ে তিন জনকে আত্মহত্যার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছি।

ইত্তেফাক/এসজেড