আমাদের দেশে প্রায়ই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে নানাজনকে নানা কথা বলতে শোনা যায়। নির্বাচন এলেই যেন তা আরও বেড়ে যায়। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আসলেই কি শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব? এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত প্রকাশিত হলো
এখানে ভুলে গেলে চলবে না যে, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাত্ বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে বিএনপিই কিন্তু আওয়ামী লীগকে এ কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল যে, নিজেদের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান করার জন্য বিএনপি অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমার অভিমত, আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মন্দের ভালো নির্বাচনকেই আমরা মেনে নিয়েছি এবং হয়তো আগামীতেও তাই নিব।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর
এমন একজন মানুষও আছে বলে মনে হয় না, যিনি দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান না। পুস্তকে গণতন্ত্র সম্পর্কে যেসব কথা লেখা আছে ঠিক, সেইরূপ একটা নির্বাচনের প্রত্যাশা সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা প্রায়ই টিভির পর্দায় টকশো তে করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে বর্তমান বিশ্বে কোনো দেশের ওইরূপ একটা নির্বাচন হয়েছে বা ভবিষ্যতে হবে—এরূপ সম্ভাবনা নেই বললে চলে। অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দি পিপল, বলতে যে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে তারাও এখনো পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নির্বাচনে পরাজিত হলে নির্বাচন ব্যবস্থাকেই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করা ঠিক হবে না। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিষ্ণু হতে হবে।
অমিত বণিক
উন্নয়ন বিশ্লেষক, উত্তরা, ঢাকা
এরশাদকে ক্ষমতায় রেখে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় জেনেই ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি চেয়েছিল বলেই তা তখন সম্ভব হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যতটা সম্ভব ‘সুষ্ঠু’ নির্বাচন চলতে থাকুক, বিএনপি যদি তা-ই চাইতো তাহলে তারা কখনো তত্ত্বাধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করত না। আবার আওয়ামী লীগও যদি ভালো দৃষ্টান্ত রেখে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট ফাঁক-ফোঁকড়গুলো বন্ধ করে, পুরো ব্যবস্থাটিকে আরো কার্যকর করতে চাইতো, তাহলে আদালতের রায় কার্যকর করার অজুহাতে একেবারেই তার টুটি চেপে ধরত না। তাই আমি মনে করি, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
সকলে অংশগ্রহণ করলেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আমি মনে করি না। নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর, অবাধ ও জনবান্ধব করতে সকলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি অবশ্যই নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেননা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তাদের ভূমিকায় লক্ষণীয়।
সালেহীন সোয়াদ সাম্মী
মধুখালী, ফরিদপুর
চারদিকে নানা দুশ্চিন্তা। কী হবে? নির্বাচন হবে কি? শান্তিপূর্ণ না রক্তক্ষয়ী? নির্বাচন না হয় হলো, তারপর কি হবে? ক্ষমতাসীন দলের অধীনে কখনও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় কি?
মো. মিজানুর রহমান
পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম
সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ‘নির্বাচন’ মানেই ‘চয়েস’ বা বিকল্পের মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ। তাই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিশনকে সকল প্রতিযোগীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে।
মো. রাকিব ইসলাম
দোলাপাড়া, ডোমার, নীলফামারী
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের দাবি থাকে সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শতভাগ না হোক, গ্রহণযোগ্য অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট
অত্যন্ত উত্সাহ উদ্দীপনায় সংসদ আসনগুলোতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন প্রার্থীরা। সুষ্ঠু নির্বাচন বলতেই সবদলের অংশগ্রহণ। এবার তাই হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব দলের মধ্যে আন্তরিকতা প্রয়োজন।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চরভৈরবী, চাঁদপুর
খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে চরম মতভেদ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট-মহাজোট-ফ্রন্ট রাজনীতির মেরুকরণ এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা-মতামত-ফতোয়া-দাবিনামা দিচ্ছেন তা কিন্তু তারা নিজেরা ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় তার ছিটেফোঁটাও এস্তেমাল করেননি বলে জনগণ সাক্ষী। ফলে তাদের তাবত্ মতামত টক-শো, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ড্রইং রুমের আড্ডার খোরাক বৈ অন্য কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যে আন্তরিক তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ যে শুধু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেই হয়ে থাকে তা নয়, ইদানীং উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেও নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা-১২১৯
আমাদের দেশে সব সময় নির্বাচন এলেই নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এখন আর আগের মতো শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। সেখানেও থাকে দ্বিমত ও নানা ধরনের সমস্যা।
লায়ন মো. রবিউল হোসেন রবি
মতিঝিল, ঢাকা
গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখতে হলে দেশের সমৃদ্ধির জন্য ঐক্যের প্রয়োজন। ঐক্য ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচন মানেই হচ্ছে, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ।
মো. সাহিদুল ইসলাম
সভাপতি, শিশু প্রতিভা বিকাশ কেন্দ্র
সুষ্ঠু নির্বাচন মানে হলো শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, নির্ভয়ে সকলের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা। আমাদের মতো দেশে প্রশাসন, নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপই পারে নির্বাচনকে শতভাগ সুষ্ঠু হিসেবে উপহার দিতে।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সরকারি দলের অবশ্যই সদিচ্ছা থাকতে হবে। তাহলে আমাদের দেশেও প্রায় শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।
মোহাম্মদ মুকাদ্দেস হোসাইন
গ্রাম-পাঙ্গাসী, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
আমাদের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব। কারণ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির চেয়ে আমাদের দেশের জনগণ অনেক সচেতন। কাজেই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবং সকল দলের আন্তরিকতা ও সৌন্দর্যপূর্ণ মনোভাব বজায় থাকলে ইনশাআল্লাহ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নইলে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।
মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী-৬২০২
সুষ্ঠু নির্বাচন মানেই হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই হয় গণতন্ত্রের চর্চা।
সুগন্ধী আক্তার
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
অবশ্যই আমাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে জনস্বার্থে। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে যদি ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
সকল সম্ভাবনার দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। ইচ্ছে করলে সবকিছু করা সম্ভব। নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করাও সম্ভব। যদি ইসি নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়।
ডা. মো. জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে তাকেই বুঝায়, যেখানে সবদলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হওয়া।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
মুন্সীগঞ্জ
আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি না থাকায় নির্বাচনে জিতলে সুষ্ঠু হয়েছে আর হারলে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। রাজনৈতিক এই রেওয়াজ তুলে দিতে হবে এবং জনগণের রায়কে মেনে নিতে হবে।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
আমাদের এবারের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশা যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ যেন প্রাণবন্ত হয়।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ
স্টেডিয়াম সড়ক, সদর ফেনী।
পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই যেমন শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় না। তেমনই শতভাগ ভোটও কাস্টিং হয় না। আমাদের এই উপমহাদেশের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর যে সমস্ত নির্বাচন হয়েছে, তাতে ৭০% বা ৮০% ভোট কাস্টিং হলে নির্বাচন কমিশন সন্তোষ প্রকাশ করেছে তেমনি ৭০-৮০% গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আমাদের একাদশ জাতীয় নির্বাচনও যদি এইভাবে শতকরা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় তাহলেই সেটা জনগণ সফল নির্বাচন হিসেবে গণ্য করবে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
আমাদের দেশে নির্বাচন এলেই চলে প্রতিযোগিতামূলক প্রচারণা। শুরু হয়ে যায় নানা ধরনের হাঙ্গামা, সহিংসতামূলক পরিস্থিতি। সেটা সুষ্ঠু নির্বাচন কোনোভাবেই বলা যাবে না।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব সব দলের। সব দল মনেপ্রাণে চাইলে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এবার।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা
মনোনয়ন চূড়ান্ত হবার পর এখন রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণই হচ্ছে সুন্দর সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
বীথি রহমান
মতিঝিল, ঢাকা
সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে নির্বাচনে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। কোথাও কোনো আচরণবিধি লংঘন করা যাবে না। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা

