দেশীয় সিরামিক-শিল্প রক্ষায় জ্বালানি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করার দাবি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২২, ১০:২০

দেশীয় সিরামিক-শিল্প রক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে উদীয়মান এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সিরামিক (টেবিল ওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার) শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) নেতৃবৃন্দ। 

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সিরামিক খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় আমদানি বিকল্প একটি শিল্পখাত। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রপ্তানি এবং আমদানি-বিকল্পপণ্য হিসেবে দেশে ইতিমধ্যেই ৭০টি সিরামিক (টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার) শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ শিল্পে দেশি-বিদেশি মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এছাড়া রপ্তানিখাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ বার্ষিক প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা। গ্যাসনির্ভর এই শিল্পে ক্রমাগত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া বিপাকে রয়েছে উদ্যোক্তারা। এ শিল্প গ্যাসচালিত হওয়ায় বিকল্প কোনো জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ নেই। বিগত ১০ বছরে শিল্পখাতে প্রায় ১০০ শতাংশ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, সিরামিক শিল্পে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত গ্যাস কাঁচামালের অন্যতম একটি উপকরণ হিসাবে গণ্য করা হয়। যার অংশ পণ্যের মোট উৎপাদন ব্যয়ের ১১ থেকে ১২ শতাংশ। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তৈরি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়। কিন্তু বিদেশি পণ্যের সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় তৈরি পণ্যের মূল্য ইচ্ছেমতো বৃদ্ধি করা যায় না। ফলে উত্পাদককে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এমতাবস্থায়, সরকারের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে অংশীদার হিসাবে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনের লক্ষ্যে গ্যাসনির্ভর সিরামিক (টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যার) শিল্পে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অনুরোধ জানান তিনি।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিএমইএর সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, গত চার বছরে তিতাস গ্যাস কোম্পানি ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অধিক মুনাফা করেছে। এর পরেও লোকশানের দাবি তুলে অবিবেচকের মতো আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আদৌ যুক্তিসংগত নয়। অতীতে দাম বৃদ্ধির সময় তিতাস কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি প্রদান করে বলেছিল, চাহিদা মাফিক উপযুক্ত মাত্রায় উন্নতমানের গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে প্রয়োজনীয় গ্যাসের প্রেসার ও মান ঠিক রেখে নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নতমানের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তিতাস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অর্জন করতে সক্ষম হননি।

ইত্তেফাক/ ইআ