‘বিদ্যালয় করলেই সরকারি হয়’ এই আশায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ২০১২ সালের পূর্বে ১২২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলমান ছিল। তার মধ্যে ৪৩টি সরকারি, ৭২টি রেজিস্টার্ড ও সাতটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি সারা দেশে ২৬ হাজার ১৯৩টি রেজিস্টার্ড, কমিউনিটি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর নতুন করে দশমিনায় আরো ২৩টি বিদ্যালয় বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের নীতিমালায় বলা আছে একটি বিদ্যালয়ের চার পাশে ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। কিন্তু ঐ ২৩টি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মানা হয়নি এই নীতিমালা।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানায়, ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সরকারিকরণের জন্য তৎকালীন সময়ে উপজেলা পর্যায়ে একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে দশমিনায় ৭২টি রেজিস্টার্ড, সাতটি কমিউনিটি ও নতুন ২৩টি বিদ্যালয় এবং পূর্ব বড়গোপালদী নামে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়সহ মোট ১০৩টি বিদ্যালয়ের জন্য সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ঐ টাস্কফোর্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তিনটি ধাপে মোট ১০২টি বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। তবে পূর্ব বড়গোপালদী বিদ্যালয়ের সরকারিকরণ বিভিন্ন ঝামেলায় আটকে আছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার রেজিস্টার্ড, কমিউনিটি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে অধিদপ্তর থেকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। ঐ নির্দেশনায় ২০১২ সালের আগে বিদ্যালয়ের নামে সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশ জমি এবং ২০১২ সালের সমাপনী পরীক্ষায় অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও নীতিমালায় বলা আছে, দুই কিলোমিটার (ক্যাচমেন্ট) এরিয়ার মধ্যে কোনো বিদ্যালয় স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু নতুন বিদ্যালয়গুলো রয়েছে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার মধ্যে। যার ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী খুবই কম। তবে এসব বিদ্যালয়গুলোতে কাগজেকলমে ভর্তি ঠিক রাখা হয়।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, আমাদের অফিস রেকর্ড অনুযায়ী মোট সরকারি বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৫টি। সরকারি করার জন্য এ উপজেলা থেকে ১০৩টি বিদ্যালয়ের সুপারিশ প্রেরণ করা হলে ‘পূর্ব বড়গোপালদী’ বাদে বাকি ১০২টি বিদ্যালয় সরকারি করা হয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ছাড়া আর কোনো বিদ্যালয় নেই। অফিসের সঙ্গে নতুন বেসরকারি বিদ্যালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
