‘প্রথম সিনেমার জনপ্রিয়তা দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে’

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ০৭:০৫

মডেলিং, নাটক, উপস্হাপনার পর ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা দিয়েও বাজিমাত করেছেন অভিনেত্রী নোভা। সম্প্রতি সিনেমাটির জন্য একটি পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছেন তিনি। নিজের অভিনয় পরিকল্পনাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল-

বতমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই

— ‘মৃধা বনাম মৃধা’ সিনেমাটির পর তেমন কাজ করা হয়নি। তবে ওটিটির একটি কাজ করেছি। এখনই কাজটির বিস্তারিত জানাতে চাচ্ছি না। এটা চমক হিসেবেই থাকুক! পাশাপাশি একটি সিনেমার পরিকল্পনা চলছে।

‘মৃধা বনাম মৃধা’ আরেকটি সাফল্য যুক্ত করতে যাচ্ছে আপনার ক্যারিয়ারে। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

গতকালই জানতে পেরেছি প্রথম আলো তারকা জরিপে মনোনয়ন পেয়েছি। খবরটি শোনার পর থেকেই দারুণ উচ্ছ্বসিত আমি। পুরস্কার পাই বা না পাই তারা যে আমাকে যোগ্য মনে করেছেন তাতেই আমি অনেক খুশি। জীবনের প্রথম সিনেমায় এমন সাফল্য সত্যি গর্বের একটি বিষয়।

প্রথম সিনেমার পর তেমন কোনো কাজ করেননি। এটা কী জনপ্রিয়তা কারণে, নাকি এর চেয়ে ভালো কিছু করার প্রত্যাশায়?

ধন্যবাদ! আপনি একদম আমার মনে কথাটি বলেছেন। প্রথমত, আমি বরাবরই বেছে বেছে ভালো কাজ করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয়, মানুষের মনে দাগকাটার জন্য খুব বেশি কাজের দরকার নেই। ‘মৃধা বনাম মৃধা’ এমন একটি কাজ, এরপর যদি আমি সিনেমা না-ও করি তাতে আমার দুঃখ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, প্রথম সিনেমার জনপ্রিয়তা আমার দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমার প্রতি দর্শকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। তারা আমার কাছে এর চেয়ে ভালো কিছু বা এর সমমানের কাজই আশা করছেন। সেই জায়গা থেকে মনে হয়, আরও ভালো কাজ করা উচিত।

এমন কাজে তাহলে নোভাকে নিয়মিত দর্শকরা পাচ্ছেন?

দেখুন, এখন তো গল্প টিভি নাটক সিনেমার মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের অনেক নামিদামী তারকারাও নানা মাধ্যমে কাজ করছেন। আমিও একটি গণ্ডির মাঝে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চাই না। গল্প মনে দাগ কাটলে যেকোনো মাধ্যমেই কাজ করব।

ওটিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা বা পরিকল্পনা কী?

এই মাধ্যমটি এত বেশি সাড়া ফেলেছে যে, এটা আমরা বিনোদনের আরেকটি ভবিষ্যত্ বলতেই পারি। কারণ যারা হলে গিয়ে সিনেমা বা টিভিতে নাটক দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা সময় করে ওটিটিতে ঠিকই দেখছেন। তাছাড়া কাজটি সারাবিশ্বের কন্টেন্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এতে ভালো কাজের প্রবণতাও বাড়ছে। এটা খুবই ইতিবাচক।

ওটিটি আসায় গল্প বলার ধরনেও একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপনার চোখে এই পরিবর্তনটি কেমন?

সত্যিই একটা ধারাবদল আমরা দেখতে পাচ্ছি। আসলে গল্পই তো একটি সিনেমা, নাটক বা সিরিজের নায়ক। নায়ক যদি ভালো হয় তাহলে তার সকল উপাদান বা অলঙ্কারও ফুটে ওঠে। কিন্তু গল্প ভালো না হলে যত দামি শিল্পীই অভিনয় করুক না কেন, কোথায় যেন ঘাটতি থেকে যায়।

কিন্তু থ্রিলারধর্মী কাজ বেশি হওয়ায় দর্শক অনিহা তৈরি হবে মনে করছেন না?

দেখুন, এখন হয়তো দর্শকরা এ ধরনের কাজ বেশি দেখছেন বলে নির্মাণ বেশি হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন গল্পে নির্মাণ শুরু হয়েছে। আমাদের শিগগিরই গল্পের ধারাবদল হবে।

মডেলিং, অভিনয়, উপস্হাপনা সব মাধ্যমেই বিচরণ করছেন। আসলে কোন মাধ্যমে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?

একেক মাধ্যমে কাজের একেক ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। যে মাধ্যমেই কাজটি করি না কেন, ঠিকঠাক করার চেষ্টা থাকে|

অনেকেই বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক তেমন ভালো না। আসলে এই সম্পর্কগুলো কেমন?

আমি আসলে জেনারেশন গ্যাপে বিশ্বাসী না। আমার সঙ্গে সিনিয়র-জুনিয়রের সঙ্গে সমান সম্পর্ক। শুধু শিল্পী না, যেকোনো মানুষ যত বড়ই হোক তাকে ওপেন মাইন্ডেড হতে হবে। কেননা, একটা গণ্ডির মাঝে নিজেকে আবদ্ধ রাখলে আপনার কাছ থেকে অন্যরা কীভাবে শিখবে!

ইত্তেফাক/টিআর