পুলিশের এভিয়েশন উইংয়ে পাইলট হিসেবে যোগ দিচ্ছেন চার এএসপি

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ১৭:৩২

বাংলাদেশ পুলিশের নবগঠিত এভিয়েশন উইংয়ে পাইলট হিসেবে যোগ দিচ্ছেন চার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। তারা হলেন সিনিয়র এএসপি মুশফিকুল হক চন্দন, শরীফ সারোয়ার হোসেন, এএসপি ফাতেমা তুজ জোহরা ও আবুল হোসাইন। তাদের মধ্যে এএসপি ফাতেমা তুজ জোহরা প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

সোমবার (২১ মার্চ) বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের গ্রুপ কমান্ডার মেজর জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসিনুল বাকী এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসপি'র নেতৃত্বে আর্মি এভিয়েশন স্কুলের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময় করেন পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এসময় আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, এভিয়েশন উইং চালুর ফলে বাংলাদেশ পুলিশ ত্রিমাত্রিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে। বাংলাদেশ পুলিশের নবগঠিত এভিয়েশন উইং দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি অভিযান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এভিয়েশন উইং চালুর অনুমতি প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

হেলিকপ্টার চালাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

আইজিপি আরও বলেন, দেশের যে কোনো প্রয়োজন ও সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশ একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার এক সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের নবগঠিত এভিয়েশন উইংয়ের পাইলটদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে আর্মি এভিয়েশন স্কুল বিশেষ ভূমিকা রাখছে‌। পুলিশের সাথে সশস্ত্র বাহিনীর- বিশেষ করে সেনাবাহিনীর পেশাগত সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা রয়েছে। আগামীতে এ ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়বে এবং সুসংহত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মেজর জেনারেল আই কে এম মোস্তাহসিনুল বাকী বলেন, পুলিশের প্রশিক্ষণার্থীরা অত্যন্ত আগ্রহ, আন্তরিকতা নিয়ে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছে। তারা যোগ্য পাইলট হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় ডিআইজি (লজিস্টিকস) মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। প্রশিক্ষণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন সহকারী পুলিশ সুপার ফাতেমা তুজ জোহরা। এসময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিগণ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে প্রথম স্থান অধিকারী পুলিশ কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা। ছবি: বাংলাদেশ পুলিশ

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ পুলিশের এভিয়েশন উইংয়ের জন্য রাশিয়া থেকে দুটি আধুনিক হেলিকপ্টার কেনার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর্মি এভিয়েশন স্কুলে হেলিকপ্টার চালনায় বর্তমানে বিভিন্ন বাহিনীর দশ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে চারজন বাংলাদেশ পুলিশের। চার প্রশিক্ষণার্থীই ইতোমধ্যে তাদের একক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। সিনিয়র এএসপি মুশফিকুল হক চন্দন ও শরীফ সারোয়ার হোসেন বর্তমানে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নে (র‍্যাব) কর্মরত। এএসপি ফাতেমা তুজ জোহরা ও আবুল হোসাইন পুলিশে কর্মরত। তারা পাইলট হিসেবে পুলিশের এভিয়েশন উইংয়ে যোগ দেবেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম