যুদ্ধের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানির পেছনে ছোটা ‘পাগলামি’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২২, ০৩:৩০

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে বিশ্ব জুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির পেছনে ছোটা পাগলামি বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনটা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে দিতে পারে। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর পরই তেলের দাম বাড়তে থাকে। রাশিয়ার জ্বালানি খাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই দাম গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে যায়। শুধু তেল নয়, গ্যাস এবং কয়লার দামও বেড়েছে। ফলে বিশ্বের সব দেশেই জীবাশ্ম জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তেল এবং শীর্ষ গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। রাশিয়া থেকে তেলের জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে আপাত ব্যবস্হা হিসেবে বিশেষ করে বিশ্বের ধনী দেশগুলো মরিয়া হয়ে তেল ও গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজছে।

গুতেরেস সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই আপাত ব্যবস্থা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছানোর জানালা বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি চীন সহ অন্যান্য দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে কয়লার ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান। কপ২৬ এর পর এই প্রথম জলবায়ু ও জ্বালানি নিয়ে বড় ধরনের বক্তৃতা দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। দ্বিধাহীন বাক্যে তিনি বলেন, ‘গ্লাসগোতে যে সামান্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তা বিপজ্জনক জলবায়ু পরিবর্তন রোধে অপর্যাপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘এই সংকটের সমাধান গ্লাসগোতে হয়নি। সত্যি বলতে, সমস্যা দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্হিতিকে আরও সংকটময় করে তোলার হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশ্বের প্রধান প্রধান অর্থনীতির দেশগুলো এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার নীতি নিচ্ছে। জ্বালানির জোগানে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তার ফলে বিভিন্ন দেশে এটির ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে এবং তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর যে কথা দিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করতে পারে। এটা পাগলামি। জীবাশ্ম জ্বালানির আসক্তি নিশ্চিতভাবেই পরষ্পরের ধ্বংস ডেকে আনবে।’

বিভিন্ন দেশকে অবশ্যই কয়লা এবং সব ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরে আসার গতি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য শক্তির উৎসে স্হানান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও মনে করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘এটাই জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একমাত্র সঠিক পথ।’

ইত্তেফাক/টিএ