জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দল গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২২, ০৯:৩৫

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্ধারিত সময়েই, অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে দলটির জাতীয় সম্মেলন। এ লক্ষ্যে শুরু হয়েছে জোরালো প্রস্তুতি। দলের সাংগঠনিক বিভাগ ও জেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ শাখা ও ইউনিটগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সংগঠনকে আরো সুসংহত করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় প্রতিনিধি সভা, বর্ধিত সভা ও সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত মাস থেকে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড শাখার সম্মেলন জোরালোভাবে চলছে। এছাড়া সহযোগী সংগঠনগুলোকে তৃণমূল পর্যন্ত সুসংগঠিত করার কাজও চলছে সমানতালে।

দলীয় সূূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের পৌনে দুই বছর সময় বাকি থাকলেও এখন থেকেই পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এজন্য সব কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে দলটি। তৈরি করা হয়েছে বিশাল রোডম্যাপ। সেই আলোকে চলছে নির্বাচনি প্রস্তুতি পর্ব। গঠন করা হচ্ছে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সাংগঠনিক কমিটি। দলের মনোনয়নের বিষয়টি দেখভাল করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে বিভিন্ন জরিপ এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন দলের সভানেত্রী।

জানা গেছে, বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা মাথা রেখেই জনগণের চাহিদানুযায়ী একটি নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন করা হবে। নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিও কাজ শুরু করেছে। জনগণ কী চায় সেই বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার প্রণয়ন করার চিন্তা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেশকে শক্তিশালী করা এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে এবারের ইশতেহারে। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেতাকর্মীদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠে নামাতে চায় হাইকমান্ড।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল অর্থাত্ মহানগর, জেলা-উপজেলা-থানা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটিগুলোকে হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর। সভাপতি পদে নবম বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন ওবায়দুল কাদের। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দলটিকে ২২তম জাতীয় সম্মেলন করতে হবে।

আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানান, বর্ধিত সভা, প্রতিনিধি সভা, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের সভা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই, স্ব স্ব জেলার সম্মেলন শেষ করা। এক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ইউনিট কমিটি অর্থাত্ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কমিটিগুলো কোনো না কোনো জেলা বা মহানগর কমিটির অধীনে। সেই জেলা বা মহানগর কমিটির সম্মেলন করতে হলে আগে এসব ইউনিটের সম্মেলন শেষ করতে হয়। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ইউনিট কমিটি গঠন এখন শেষ পর্যায়ে। আওয়ামী লীগের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে অধিকাংশ জেলা সম্মেলনই বাকি রয়েছে। উপজেলা, থানা ও পৌরসভা কমিটি রয়েছে ৬৫০টি। এর মধ্যে ৪৫০টি কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মধ্যে কোনো কোনোটির ৮ বছর, ১০ বছর বা এক যুগও পার হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৮ ফেব্র‚য়ারি দলের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংগঠনকে সেভাবেই গুছিয়ে তুলতে সম্মেলনের কাজ দ্রুত শুরু করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সংগঠনের জন্য কাজ করারও পরামর্শ দিয়েছিলেন দলীয় সভানেত্রী। জানা গেছে, সরকারের সাফল্য ও বিরোধী দলের ব্যর্থতা জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সক্রিয়ভাবে মাঠে নামানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলা-উপজেলায় গিয়ে বৈঠক করছেন। একই সঙ্গে বেশি কোন্দলপূর্ণ জেলা-উপজেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। গত ৯ ফেব্র‚য়ারি বৈঠকে বসেন খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। গত ৪ ও ৫ মার্চ চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দুই দিনব্যাপী এ বৈঠকে জেলা-উপজেলা নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ মুহূর্তে হাল ছেড়ে দেয়। এবার বিরোধী দল আটঘাট বেঁধে নির্বাচনি মাঠে নামার পরিকল্পনা নিচ্ছে। যদিও বক্তৃতা-বিবৃতিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অনড় রয়েছে বিএনপি। তবে এসব কিছু পাত্তা দিতে চাচ্ছেন না সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে আসুক আর না আসুক তাতে কিছু যায় আসে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। 

ইত্তেফাক/কেকে