বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বর্বর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে: শিল্পমন্ত্রী 

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২২, ২০:৩৯

১৯৭১ সালে বর্বর গণহত্যা চালানোর জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, এটা এখন স্বতঃসিদ্ধ ও প্রমাণিত। এখানে ম্যাসাকার হয়েছে, গণহত্যা হয়েছে। বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। 

শুক্রবার (২৫ মার্চ) সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘৭১ এর গণহত্যা ও পাকিস্তানের বর্বরতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে থাকার কারণেই হয়তো বেঁচে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সে সময় তারা হত্যা করতে পারেনি কারণ, আন্তর্জাতিক মহলের যে চাপ ছিল তাতে তাদের স্বীকার করতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেখানে আছেন। তারা যেহেতু বলেছে তিনি সেখানে আছেন, তখন তাদের উল্টো দায়িত্ব হয়ে যায়, বঙ্গবন্ধুকে বাঁচানো। আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু এ দেশে থাকলে তারা তাঁকে মেরে ফেলত।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, "দেশীয়, আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিকভাবে তার যে দূরদর্শিতা ছিল, তা তিনি (বঙ্গবন্ধু) প্রমাণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করলেন। তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বাঙালি জাতিকে আবারও শেষ নির্দেশনা দিলেন— 'আমি যদি নির্দেশনা দিতে নাও পারি তবে তোমরা ঘরে ঘরে প্রস্তুত হয়ে যাও।"

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাসও আছে। পাক হানাদার বাহিনীর সে সময়কে বলে গোলমালের বছর। এগুলো তারা বাইপাস করে গেছে। তবে তাদের গণহত্যার কথা স্বীকার করতে হবে। এ জন্য অবশ্যই পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যাসহ তাঁর পরিবারের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে স্বীকৃতির দেওয়ার কথা হয়েছে। সারা দেশের দাবি ‘২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ পালন করা হোক।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এই অবস্থায় গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, লে. কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক কর্নেল (অব.) তৌফিকুর রহমান, শহীদ সন্তান নট কিশোর আদিত্য এবং সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

ইত্তেফাক/এসটিএম