ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষণাগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষণ করার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়েছে। আমরা দুর্যোগ মোকাবেলায় অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব বিভাগ গবেষণা করে এবং গবেষণালব্ধ যে কাগজ বের হয় সেগুলো মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষণ করা উচিত। এতে পরবর্তীতে বিভিন্নধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।
সোমবার (২৮ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সেমিনার রুমে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্যোগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সাইন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্স বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আপনারা যে শিক্ষক হয়েছেন, আমরা যে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি সে সুযোগ আমরা পেতাম না। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকরা আমাদের উপর যে বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল সে বৈষম্য আমাদের এগিয়ে যেতে দিতো না।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণমুখী বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে শিক্ষা-সংস্কৃতির নিয়মিত চর্চা হয়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমরা আরও এগিয়ে যাবো। আমাদের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গবেষণা এবং পরিশ্রমের কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এসডিজি অর্জনের জন্যও এটি সহায়ক হয়ে উঠবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বব্যাপী হচ্ছে। রোগ সারানোর জন্য ডায়াগনোসিসের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ যদি কোন রোগ হয়, তার জন্য ডায়াগনোসিস প্রয়োজন। আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ডায়াগনোসিস হিসেবে ব্যবহার করে এ রোগ সারাতে হবে। প্রযুক্তি-বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে শিক্ষা নয়। ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্স বিভাগটি যে জ্ঞানের সৃষ্টি করেছে সেজন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন থেকে শুরু করে সব জায়গায় একটি গুণগত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি তৈরী করার কথা ভাবছেন, সে কাজটি আমরা করছি। পৃথিবীর অন্য বিশ্বিবদ্যালয়গুলো যেভাবে উন্নয়ন করছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রসর হচ্ছে। তবে তার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ বিশ্ববিদ্যালয়কে সরবরাহ করতে হবে।
এসময় আরো বক্তব্য দেন ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ. খান প্রমুখ।
