বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে জাতি হতবাক বলে মন্তব্য করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের প্রত্যাহার দাবি করেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা এভাবে দলীয় ক্যাডারদের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন না। অবশ্যই তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।
রিজভী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে সারা বছরজুড়ে স্বাধীনতার নামে এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার যেসব অনুষ্ঠান হয়েছে, সেসব অনুষ্ঠানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অপাংক্তেয় ও উপেক্ষিত। আদালতের রায় আর র্যাব-পুলিশের ভয়ে সন্ত্রস্ত মুক্তিযোদ্ধারা নীরবেই পার করে দিয়েছেন তাদের জীবনবাজি রেখে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির জীবনে বড় নির্মম পরিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের উপেক্ষা করে আওয়ামীভক্ত প্রজাতন্ত্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী এখন জাতিকে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ২৬ মার্চ রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান এবং তারই অধস্তন ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রধান ভব্যতা-সভ্যতার সব সীমা ছাড়িয়ে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ শিষ্টাচারবর্জিত অশালীন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে গোটা দেশবাসী হতবাক। এ দুই কর্মকর্তার গর্হিত অপরাধের জন্য জাতি কোনোদিন ক্ষমা করবে না। এর মাসুল তাদেরকে জনগণের কাছে একদিন দিতেই হবে।
র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিজভী বলেন, বেনজির আহমেদের বন্দুক-পিস্তলের মাথায় যেহেতু গণতন্ত্রকামী বহু মানুষের জীবন-মৃত্যু নির্ভর করছে, সুতরাং তার সম্পর্কে আপাতত আর বেশি কিছু না বলাই নিরাপদ। তার ওপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর জনগণ ভেবেছিল কিছুটা হলেও দেশে গুম-খুনের ভয়ের পরিবেশ কেটে যাবে। কিন্তু গত পরশু তার বক্তব্যে বোঝা গেলো তিনি বাংলাদেশে বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতেও দ্বিধা করবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কাবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
