ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের দরপতন ও কেনার সময় ব্যবসায়ীদের ওজনে বেশি নেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে চাষিরা। মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকালে চাষিরা বিক্ষোভ করে এবং পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেয়। তারা কয়েকটি আড়তেও হামলা করেন।
দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহ জেলা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ৭৯১ হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এর মাঝে শৈলকুপা উপজেলাতে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করে। প্রথম দিকে প্রতি মন পেঁয়াজ এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে দু হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছিল। আমদানি বাড়ার পর দাম কমতে থাকে। মঙ্গলবার ছিল শৈলকুপার হাটের দিন। ভোর হতেই চাষিরা ভ্যান নসিমন বোঝায় করে পেঁয়াজ হাটে নিয়ে আসে। অন্তত ২০ হাজার মন পেঁয়াজ আমদানি হয়। হাটে এসে তারা দেখে পেঁয়াজের মন ৭’শ টাকায় নেমে গেছে। চাষিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন পেঁয়াজ কেনার সময় ঢলতার নামে ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও ব্যপারিরা মন প্রতি ৪-৫ কেজি বেশি নেয়। চাষিরা পেঁয়াজ বিক্রি না করে ফেরত নিয়ে যায়।
শৈলকুপা উপজেলার সাধুহাটি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি রাজন হোসেন বলেন, এবার ৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। হাটে ১৫ মন পেঁয়াজ এনেছেন। প্রতিমন ৭০০ টাকা করে দাম করছে। এ দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ উঠবে না। তিনি পেঁয়াজ উঠার মৌসুমে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার দাবি করেন।
শৈলকুপা পৌরসভার মেয়র কাজী আশরাফুল আজম বলেন, ঢলতার নামে চাষিদের থেকে পণ্য ওজন কালে বেশি নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মাইকিং করে অসাধু ব্যবসায়ী, ব্যাপারি ও ফড়িয়াদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যারা ওজনে বেশি নিবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
