মারিউপোলে এক দিনের যুদ্ধবিরতি, চেরনিহিভে চলছে গোলাবর্ষণ

  • রুশ বাহিনীর আরো হামলার জন্য প্রস্ত্তত আছি: জেলেনস্কি
  • প্রত্যাহারের পরিবর্তে রুশ সেনারা পুনর্গঠিত হচ্ছে: ন্যাটো
  • এখনই পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি নন পুতিন
  • রাশিয়া-ইউক্রেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে: তুরস্ক
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ০১:৫৯

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিউপোল শহরে এক দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে রাশিয়া। আর এর পর অবরুদ্ধ শহরটি থেকে বেসামরিক লোকদের বের করে নিতে এবং মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইউক্রেনের সরকার সেখানে অনেকগুলো বাসের একটি বহর পাঠাচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও তা টিকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রেডক্রস বলছে, তারা বেসামরিক লোকদের মারিউপোল থেকে বের করে নেওয়ার কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে প্রস্ত্তত—যদি সব পক্ষ এ কার্যক্রমের সময়কাল, পথ এবং শর্তাবলী নিয়ে একমত হয়। রেডক্রসের বাসগুলোও এখন মারিউপোলে যাবার পথে রয়েছে। রুশ বাহিনীর প্রচণ্ড বোমা ও গোলাবর্ষণের শিকার শহরটিতে হাজার হাজার লোক আটকে আছে। একজন মুখপাত্র বলেছেন, নিরাপত্তা ও পরিবহনের ব্যবস্হাপনার কারণে মারিউপোলের লোকদের বের করে নেওয়ার কাজ শুক্রবারে সম্পন্ন হবে। এর আগে ইউক্রেনের সরকার ৪৫টি বাস পাঠানোর কথা জানানোর পর বৃহস্পতিবারই এ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হয়েছিল ।

চেরনিহিভের ওপর আরও গোলাবর্ষণ

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত রুশ-ইউক্রেন বৈঠকে রাশিয়া-কিয়েভ ও চেরনিহিভ শহর দুটিতে সামরিক কার্যক্রম ‘ব্যাপকভাবে কমানোর’ কথা বললেও গত দুই রাত ধরে চেরনিহিভের ওপর গোলাবর্ষণ চলছে। উত্তরাঞ্চলীয় এ শহরটি রাশিয়ার বাহিনী কার্যত ঘিরে আছে এবং প্রায় দেড় লাখ লোক বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিবিহীন অবস্হায় বাস করছে। শহরের বাসিন্দারা বিবিসিকে বলেছেন, তারা রাতে এবং ভোরবেলাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া খবরে বলা হয়, চেরনিহিভ শহরের আশপাশে ব্যাপক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা নিক্ষেপ চলছে।

নতুন হামলার জন্য প্রস্ত্তত ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার নতুন হামলার বিরুদ্ধে পস্ত্তত রয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, ডনবাসে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে রুশ বাহিনী। আমরাও প্রস্ত্তত রয়েছি। রাজধানী কিয়েভ এবং অপর প্রধান শহর চেরনিহিভের চারপাশে সামরিক অভিযান কমানোর আলোচনায় রাশিয়ার বিবৃতিতে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে বিশ্বাস করি না, কারো সুন্দর সুন্দর কথায় বিশ্বাস করি না। এসব শহরের আশপাশে সামরিক অভিযান কমানোর বিষয়ে রাশিয়া যে ঘোষণা দিয়েছে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।’

রুবলে পরিশোধ না দিলে গ্যাস বন্ধ

রাশিয়া তার গ্যাসের ক্রেতা রাষ্ট্রগুলোকে বলেছে যে, তারা অবশ্যই তার গ্যাসের জন্য রুবলে অর্থ প্রদান করা শুরু করবে না হলে সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। পুতিন বলেছেন, ডেডলাইন ৩১ মার্চ শুক্রবার থেকে ক্রেতাদের অবশ্যই ‘রাশিয়ান ব্যাংকে রুবল অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে’। পুতিনের এই দাবিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুবলের কমে যাওয়া মান বাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে

শিগগিরই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। বৃহস্পতিবার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। তিনি বলেন, দুই পক্ষের একত্রিত হওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মধ্যস্হতাকারী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনে আগ্রহী। মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। এই বৈঠকে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে আশার আলো দেখা গেছে। কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্কের সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সংঘাত নিরসনে দেশটি মধ্যস্হতা করছে।

রুশ সেনারা ইউক্রেন ছাড়ছে না

রুশ সেনারা ইউক্রেন ছাড়ছে না। তারা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটো। বৃহস্পতিবার জোটের মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ এই দাবি করেছেন। কিয়েভের আশপাশে সামরিক অভিযানের তীব্রতা কমানোর ঘোষণার পর তিনি একথা বললেন। ন্যাটো মহাসচিব জানান, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শান্তি আলোচনায় রাশিয়া সরল বিশ্বাসে আলোচনা করছে বলে এখনো মনে করে না জোট। কারণ, ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযানের লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি