লিচুর রাজ্যে মধু আহরণ উৎসব, লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ২০০ মে. টন

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১২:০৮

দিনাজপুর জেলায় লিচুগাছে এখন শোভা পাচ্ছে মুকুল। মুকুল থেকে মৌমাছিরা ব্যস্ত মধু সংগ্রহ করতে। আর মধু সংগ্রহে আরো ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা। যেন লিচুবাগান থেকে মধু আহরণে এখন উৎসব চলছে। লিচুর এই মৌসুমে দিনাজপুরের স্থানীয় মৌচাষিদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মধু আহরণে এসেছে ৫ শতাধিক মৌচাষি। 

বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লিচুর গাছগুলো আচ্ছাদিত মুকুলে। আর লিচুবাগানে সারি সারি করে বসানো হয়েছে মৌবাক্স। মাধববাটী গ্রামে ডা. শাহ মো. ইসমাইল হোসেনের লিচুবাগানে ১২০টি মৌবাক্স বসিয়েছেন সাতক্ষীরা থেকে আগত মৌচাষি মো. সুজন। গত কয়েক দিন থেকেই মধু আহরণ করছেন তিনি। মো. লিটন জানান, লিচুগাছে এখন মুকুল এসেছে, তাই এখনই প্রকৃত সময় মধু আহরণের। সাতক্ষীরা থেকে যে আশা নিয়ে মধু সংগ্রহ করতে এসেছেন, তার চেয়েও বেশি মধু আহরণ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঐ বাগানের পাশেই সিরাজগঞ্জ থেকে আসা মৌচাষি মো. রবিউল ইসলাম জানান, গতবারও তিনি এসেছিলেন লিচুগাছ থেকে মধু সংগ্রহে। কিন্তু গত বছর গাছে মুকুল কম ছিল। এবার প্রচুর মুকুল। তাই এবার বেশ ভালো মধু সংগ্রহের আশা করছেন তিনি। 

দেখা গেছে, প্রতিজন মৌচাষির সঙ্গে মধু আহরণে কাজ করছে পাঁচ-ছয় জন শ্রমিক। সব মিলিয়ে মধু আহরণে উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে লিচুর রাজ্য মাধববাটী গ্রামে। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মৌচাষিরা বেশ সহযোগিতাও পাচ্ছেন বাগান মালিক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে। 

মাধববাটী গ্রামের লিচুর বাগান মালিক খাদেমুল ইসলাম জানান, মুকুলে যতই মৌমাছি বসবে, ততই পরাগায়ন হবে। আর এতে লিচুর ফলনও বৃদ্ধি পাবে। এজন্য মৌচাষিদের স্বাগত জানান তারা। তিনি জানান, তাছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মধু সংগ্রহের কাজে ঐ এলাকায় আসায় স্থানীয় দোকানগুলোতেও বেড়েছে বেচা-কেনা।

এদিকে বিসিক দিনাজপুরের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন জানান, দিনাজপুরের স্থানীয় মৌচাষি ৪৩ জন এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দিনাজপুরে মধু আহরণ করতে এসেছেন প্রায় ৪৫০ জন মৌচাষি। সব মিলিয়ে দিনাজপুর জেলায় চলতি লিচু মৌসুমে ৫ শতাধিক মৌচাষি মধু আহরণ করছেন। এই মৌসুমে ১ হাজার ২০০ টনেরও বেশি মধু আহরণ সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। 

উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন আরো জানান, লিচু থেকে মধু আহরণ বেশ লাভজনক। তাছাড়া লিচুর মধুর চাহিদাও বেশি। তিনি বলেন, বিসিকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ১৫০ জন মৌচাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেককে একটি করে মৌমাছির বাক্স দেওয়া হয়েছে। 

ইত্তেফাক/ইআ