প্রথম দশজনকে সম্মাননা দিলো ঢাবির আইইআর

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২২, ১৭:১৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অধ্যয়ন করেছেন, অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের থেকে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথম যোগদান করেছেন এমন দশ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) বিকেলে আয়োজিত এক নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ইনস্টিটিউটের ২৭তম ব্যাচ তথা ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চার উৎকৃষ্টতম স্থান। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মেনে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শিল্প চর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এতে প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দা রুবিনা মিরা, প্রথম অধ্যাপক প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ড. তারিক আহসান, প্রথম বিসিএস ক্যাডার প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী অনুপ তালুকদার, প্রথম আইইআর বিওজি সদস্য প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আলমগীর হোসেন সম্রাট, প্রথম আইইআর সিলেকশন বোর্ড সদস্য দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী  মুসা ইব্রাহীম, প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গীর, প্রথম ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি সভাপতি চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোরছালিন নোমানি, প্রথম ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) সম্পাদক হিসেবে সতেরো ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ তালুকদার ও প্রথম রকস্টার হিসেবে নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ। 

এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে এভারেস্ট বিজয়ী মূসা ইব্রাহীম বলেন, আইইআরে অধ্যয়ন করার করার কারণে পাহাড়ে (এভারেস্ট বিজয়) যাওয়াটা আমার জন্য সহজ হয়েছে। আইইআর আমাকে শিখিয়েছে আমার জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত। জীবনের লক্ষ্য সেটাই হওয়া উচিত যেটা আমি সবচেয়ে বেশি করে চাই, যে কাজটা মন থেকে করতে চাই। সেই চাওয়াটা যদি শক্তিশালী হয় তাহলে সে কাজ খুব সহজেই মানুষের কাছাকাছি আসে। 

ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোরছালিন নোমানি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করে তারা কিন্তু যেকোনো জায়গায়, যেকোনো স্থানে তাদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। এখানে শুধু সদিচ্ছার প্রয়োজন। চাকরি করতে হবে, বিসিএস দিতে হবে বিষয়টি এমন নয়। আমাদের একজন মূসা ইব্রাহীম আছে। যে বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছে, ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম বসিয়েছে। তাই আমরা যদি আমাদের বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করি, ভালোভাবে শিখি তাহলে আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে পারবো। 

ডাকসুর সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, আমি কখনোই ভাবতে পারিনি যে শিক্ষকদের সঙ্গে একই মঞ্চে কথা বলার সুযোগ হবে। এজন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ছাত্রলীগের প্রতি প্রথম দর্শনে সবারই একটা নেতিবাচক ধারণা থাকে। আমি সেই ছাত্রলীগের ভেতর দিয়ে গিয়ে ডাকসুর মহান দায়িত্ব পালন করেছি। যা কখনোই সহজ ছিল না। আমি সবসময় মনে করেছি রাজনৈতিক যে জায়গাটি আছে ওখানে রাজনীতি করবো, যেখানে পড়াশোনার জায়গা আছে সেখানে পড়াশোনা করবো।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. আব্দুল হালিম। এছাড়া আইইআর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হায়াত টুটুলসহ ইনস্টিটিউটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এএএম