তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডুরান্ড লাইন নিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই উভয় পক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে অপরের বিরুদ্ধে সীমান্তে আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শনের অভিযোগ করে প্রতিবাদ লিপি বিনিময় করেছে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এএনআই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে অবস্থিত আফগান দূতাবাসকে একটি প্রতিবাদ লিপি দেয়। সেখানে বলা হয়
আগ্রাসী মনোভাব, সীমান্ত লঙ্ঘন এবং আফগান সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মীরা আইন কে উপেক্ষা করেই অনেক কিছু করছে। ক্রমবর্ধমান ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয় পাকিস্তানের সামরিক লিয়াজোঁ অফিসার উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং সীমান্ত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই চলিমান বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিভক্তকারী রেখাকে বলা হয় ডুরান্ড লাইন। ১৮৯৩ সালে তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসক আব্দুর রহমান খানের সঙ্গে এক চুক্তি সই করে।ওই চুক্তিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বর্তমান বিভক্তরেখা নির্ধারণ করা হয় যার নাম হয় ডুরান্ড লাইন।
কিন্তু ওই চুক্তির কোনো সময়সীমা ছিল না বলে এই লাইনটি এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার স্থায়ী সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। পাকিস্তান এটিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে পরিণত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেও দৃশ্যত আফগানিস্তানের পক্ষে এই উদ্যোগ মেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
