হিলি স্থলবন্দরের মোকামে বেড়েছে চালের দাম

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২২, ১৪:১১

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরে আমদানি করা ভারতীয় চাল প্রতি কেজিতে ৮-১০ টাকা করে বেড়েছে। আর সব ধরনের দেশি সরু চালের কেজিতে ৫-৬ টাকা করে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে চাল আমদানি না হওয়ার সুযোগে অসাধু অটোচাল মিল মালিক এবং বন্দরের আমদানিকারকেরা তাদের মজুত করা চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। ফলে বাজারে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তবে আগের দামেই  বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাষ্টার জানান, সরকার গত বছরের ২৪ আগস্ট থেকে চাল আমদানির অনুমতি দিয়ে ৬২.৫০ শতাংশ ডিউটি (ট্যাক্স) থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেন। এরপর বন্দরের আমদানিকারকেরা ভারত থেকে নন-বাসমতি চাল আমদানি শুরু করেন। যা চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাস পর্যন্ত চাল আমদানি হয়। কিন্তু সরকার চালের ডিউটি আবারও ৬২.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করলে মার্চ মাস থেকে দেশে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ চাল আমদানি করছেন না।

বন্দরের আরেক আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান দুদু জানান, প্রতি মেট্রিকটন চাল ভারত থেকে ৩৫০ ডলারে আমদানি করে সরকারকে ৬২.৫০ শতাংশ ডিউটি (ট্যাক্স) দিয়ে প্রতি কেজি পড়ে ৫৪-৫৫ টাকা। আর ২৫ শতাংশ ডিউটি দিয়ে পড়বে ৪৪-৪৫ টাকা। তাই আমরা ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ১০-১৫ শতাংশ ডিউটি আরোপ করে চাল আমদানির অনুমতি দিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় পাইকার ও খুচরা চাল ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন ও মামুন জানান, ভারত থেকে আমদানি করা মিনিকেট চাল ৪/৫দিন আগে খুচরা বিক্রি হয়েছে ২৫ কেজির বস্তা ১৫০০-১৫৫০ টাকা দরে। এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭০০-১৭৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ৮-১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। কিছু অসাধু আমদানিকারক ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চাল বাজারে না ছেড়ে বন্দরে তাদের নিজস্ব গুদামে মজুদ রাখে। একারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বাড়ছে।

বাংলাহিলি বাজারের চাল ব্যবসায়ী পলাশ কুমার বসাক জানান, দেশি সব ধরনের সরু চালের কেজি ৬-৭ টাকা বেড়েছে। আগে এই চাল ৫৬-৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৪ টাকায়। তবে মোটা চালের দাম বাড়েনি। আগের ৪২-৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় আমদানি করা মিনিকেট চাল (২৫ কেজির বস্তা) কেজিতে ৮-১০ টাকা বেশিতে কিছু ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন। 

বাংলাহিলি বাজারে কয়েকজন ক্রেতা জানান, সবকিছু কি রমজান আসলেই দাম বাড়ে। কয়েকদিন আগের ৪০ টাকার চাল ৪৪-৪৪ টাকা দরে কিনেছি। আবার ৫৬ টাকার সরু চাল ৬২-৬৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দাম বাড়ছে। কারও বলার কিছু নাই।

বন্দরের শ্রমিকেরা জানান, চাল ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে। আমাদের বাঁচার জন্য কিনতে হচ্ছে। এভাবে আমাদের সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। গরীবের কথা কে শুনে।

এদিকে পানামা হিলি পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, গেল বছরের ২৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৪৯ হাজার মেট্রিকটন চাল আমদানি হয়েছে। এখন বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হচ্ছে না।

ইত্তেফাক/এআই