সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে হাওরে ভেঙে যাওয়া নজরখালি বাঁধ পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোও ঘুরে দেখেন তিনি।
রবিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবীর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধগুলো পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক।
এসময় তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করছে। বাঁধের কাজে যদি কেউ অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগাম বন্যায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইতোমধ্যেই অনেক এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। যদি একমাস সময় কৃষকরা হাতে পান তাহলে তারা তাদের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জে ১৫৪টি ছোট-বড় হাওরে এবছর দুই লক্ষ ২২ হাজার হেক্টর বোরো ফসলর লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে চলমান হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম দুর্নীতি ও তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন হয়েছে। রবিবার দুপুরে পৌর শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে এ মানববন্ধন করেছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। এ সময় বক্তব্য রাখেন, হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আলী হায়দার, চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, হাওরের কৃষকদের একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন হচ্ছে বোরো জমির ফসল। কিন্তু হাওর ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে অনিময় আর দুর্নীতির কারণে তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে কৃষকদের সোনালি ফসল তলিয়ে গেছে। অবিলম্বে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

মৌসুমের প্রথম ঢলে বাঁধ ভেঙে ৩ হাজার একর জমির বোরো নিমজ্জিত