সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ দ্রুত শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।
সোমবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে পীর ফজলুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর এলাকার একমাত্র ফসল বোরো। এই ফসল ঘরে তুলতে ১০-১৫ দিন সময় প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহূর্তে বোরো ফসল হুমকির মুখে। এসময় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে সব কাজ বাদ দিয়ে এ বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, 'এবার বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ টন। ১২টি উপজেলার ৫২টি হাওরে ২২ লাখ ২২ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। কিন্তু হাওরে এখন সীমান্তের ওপার থেকে ঢল নেমে আসছে। সুনামগঞ্জেও বৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন এর গুরুত্বটা বুঝতে পারছে না। এই ফসলহানি হলে হাহাকার দেখা দেবে।'
হাওরের ধান রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে পীর মিসবাহ বলেন, এই ফসলহানি হতে বেশি দিন লাগে না। এক দিনের ভেতর একটি–দুটি বাঁধ ভাঙা শুরু হলেই সব হাওর তলিয়ে যায়। হাওরে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের জন্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যে বাঁধগুলো নির্মাণ করা হয়েছে তা সঠিকভাবে হয়েছে কিনা সেটি দেখতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকেছে। আরও কয়েকটি বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে। ফসল তোলার জন্য কয়েকটা দিন দরকার। এই ফসলকে গুরুত্ব দিয়ে পানিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচিত সবকিছু বাদ দিয়ে এখন ফসল রক্ষায় মনোযোগ দেওয়া।

মৌসুমের প্রথম ঢলে বাঁধ ভেঙে ৩ হাজার একর জমির বোরো নিমজ্জিত