জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ সময় তিনি পরিষদের সদস্যদের আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ করেছেন। রাশিয়ান সেনারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যুদ্ধাপরাধ করছে বলেও অভিযুক্ত করেন তিনি। খবর প্রকাশ করেছে বিবিবি ও আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রুশ সেনারা ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল ছেড়ে গেছে, সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যা চালানোর প্রমাণ সামনে আসছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থায় দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেছেন, আগ্রাসনকারীদের (রাশিয়া) অবিলম্বে শান্তি ফিরিয়ে আনা উচিত।
ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ইরপিন, ডাইমেরকা, মারিউপোল এবং বুচায় শিশু সহ পোড়া, রক্তাক্ত এবং বিকৃত লাশের একটি ছোট ভিডিও দেখান। এ সময় জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া দাবি করেন, তার দেশের সৈন্যরা বেসামরিক লোকদের টার্গেট করছে না। পাশাপাশি জেলেনস্কির অভিযোগকেও মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ১৫ সদস্যের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কারণ, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি তারা। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং চীনের সঙ্গে রাশিয়াও নিরাপত্তা পরিষদের একটি ভেটো শক্তি।
জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘জাতিসংঘকে সহজভাবে বন্ধ করা যেতে পারে। আপনি কি জাতিসংঘ বন্ধ করতে প্রস্তুত? যদি আপনার উত্তর না হয়, তাহলে আপনাকে অবিলম্বে কাজ করতে হবে।’
এ সময় ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের ব্যবস্থাকে অবিলম্বে সংস্কার করতে হবে। যেন জাতিসংঘে সকল দেশের জন্য ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব থাকে।’ জেলেনস্কি কাউন্সিলকে আরও বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনকে নীরব দাসে পরিণত করতে চায়।’
