‘আমাকে ভাবতে হয় না কে হিরো, কে হিরোইন’

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৩০

তিন দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় মুন্সিয়ানা দেখাতে সিদ্ধহস্ত এই অভিনেতা ঈদের কাজের ব্যস্ততা পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

সম্প্রতি আপনার অভিনীত একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

হ্যাঁ, ‘সাবরিনা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। এতে আমি গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেছি। ওটিটিতে ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেলে ৫-৭ দিনে আসলে তেমন কিছু বোঝা যায় না। কারণ এখানে তো টাকা দিয়ে দেখতে হয়। যখন কাজটি সম্পর্কে সবাই জানতে পারে তখন দর্শক প্রতিক্রিয়া বোঝা যায়। সেই জায়গা থেকে এখন অবধি সবাই কাজটির প্রশংসা করছেন।

এর বাইরে ঈদের ব্যস্ততা কেমন চলছে?

এরইমধ্যে ঈদের বেশ কয়েকটি নাটকের শুটিং শেষ করেছি। শিগগিরই ‘যমজ ১৫’ নাটকের শুটিং শুরু করব। এছাড়াও হাতে অনেকগুলো নাটকের কাজ রয়েছে। চলতি মাসে দম ফেলার সময় নেই বললেই চলে।

বরাবরই আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা মেলে। এবারের ঈদের নাটকে বিশেষ কী চমক থাকছে?

দেখুন, আমি একেক নাটকে একেক চরিত্র নিয়ে হাজির হই। দর্শকরাও সেই চরিত্রটি পছন্দ করেন। তবে এবার কোন চরিত্রটি তাদের চমকে দেবে তা এখনই বলতে পারছি না। নাটকগুলো প্রচার হলে নিশ্চয় ভালো কিছু দেখতে পাবো।

হিরো-হিরোইন নির্ভরতা কমায় চরিত্রাভিনেতাদের কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে কি-না?

হ্যাঁ, শুধু ওয়েব ফিল্মে না, নাটক-সিনেমা সব জায়গাতেই আমাদের কাজের পরিধি বাড়ছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ওটিটি প্লাটফর্মের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তাছাড়া আমার তো আলাদা একটা অবস্হান তৈরি হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। নির্মাতারা সেই জায়গাতে আমাকে কাস্ট করেন। তাই আমাকে ভাবতে হয় না কে হিরো, কে হিরোইন! আমিও আমার কাজটি ভালোভাবে করার চেষ্টা করি, ভবিষ্যতেও করে যাবো।

সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কে নিয়েও নানা নেতিবাচক গল্প আমরা শুনতে পাই। আসলে আপনাদের সেই সম্পর্কগুলো কেমন?

আমার কাছে এই সম্পর্ক ততটা খারাপ মনে হয় না। তবে দু-চারজন বেয়াদব তো থাকবেই! এটা সব জায়গাতেই থাকে। আমার সঙ্গে সবার সম্পর্কই ভালো। আমি জুনিয়র-সিনিয়র সবার সঙ্গেই কাজ করছি। অভিজ্ঞতাও ভালো।

ক্যারিয়ারের শুরুতে হুমায়ূন আহমেদসহ অনেক গুণী নির্মাতার জনপ্রিয় সব নাটকে অভিনয় করেছেন। সেই সময়ের আলোকে বর্তমান নাটকের অবস্হা কেমন দেখতে পাচ্ছেন?

এখন বেশিরভাগ নাটকে গল্প থাকে না। তাই নানা সমালোচনা হয়। তবে এটাও সত্য যে, এখনকার ২০ ভাগ নাটক দুর্দান্ত হয়। যেগুলো আগের নাটকের চেয়েও ভালো হচ্ছে। তাছাড়া এখনকার হাসির নাটক মানেই বেয়াদবি, গালাগালি। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের নাটকে সেটা ছিল না। অনেক ঠাণ্ডা সংলাপ, অথচ দারুণ প্রভাব পড়তো।

এই মান কমার কারণ হিসেবে কী বলবেন?

এখন উন্মুক্ত মাধ্যম বেড়ে যাওয়ায় মানহীন কাজ বেশি হচ্ছে। অনেকেই মানের দিকে না তাকিয়ে ভিউয়ের দৌড়ে সামিল হচ্ছে। এই ভিউ নিয়ে মাতামাতির আগে কাজটি কতটা শিল্পসম্মত এবং কারা দেখছে তা আমাদের ভাবতে হবে। বাজে কাজ দিয়ে সাময়িক ভিউ এবং কিছু টাকা আসে, কিন্তু দিনশেষে আবার সেটা হারিয়েও যায়।

একটি নাটকে একাধিক আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার কতটা যুক্তিযুক্ত মনে করেন?

আমরা নাটকে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার করতেই পারি। তবে সেটা হবে একটা অঞ্চলের। একই নাটকে একাধিক আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার কতটা যৌক্তিক সেটা ভাবনার বিষয়।

ইত্তেফাক/ইউবি