সম্মেলন ছাড়া ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ১৩:৪১

সম্মেলন, পূর্বঘোষণা বা আলোচনা ছাড়াই অগোচরে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্যসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সাধারণ নেতা-কর্মীরা মঙ্গলবার বিকেলে ও বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভের পর ছাত্রলীগ নেতারা আওয়ামী লীগ অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে অনিয়মতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্র বহির্ভূত ঘোষিত কমিটি বাতিল করে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচনের দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কমিটি ঘোষণার আগে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান। তবে স্থানীয় এমপিসহ পাবনা জেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অগোচরে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে এবং বিতর্কিত পরিবারের সন্তানদের নিয়ে যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেই বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা এমনকি জেলা আওয়ামী লীগও অবগত নয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস বলেন, গঠনতন্ত্রের অবমাননার সঙ্গে সঙ্গে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিয়মকানুন, বয়সসীমা এবং বৈবাহিক অবস্থা সকল কিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্রলীগের যে পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি অবৈধ প্রক্রিয়ায় ঘোষিত কমিটি স্থগিত করে অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। 

ঈশ্বরদী-আটঘোরিয়ার সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নূরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, অবৈধ প্রক্রিয়ায় ঘোষিত কমিটি মানি না, মানি না, মানি না। স্থানীয় এমপি হিসেবে আমার সঙ্গে কোন আলোচনা বা সম্মেলন না করে কমিটি ঘোষণা গর্হিত অপরাধ। যেভাবে কমিটি করা হয়েছে তাতে আওয়ামী লীগের সংগঠন ও নৌকার ভোট নষ্ট হবে। এই দালালি চলবে না, এখানে টাকা পয়সার খেল আছে বলে জানান তিনি।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল বলেন, কমিটি ঘোষণায় আমি বা আমার সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি’র কোন পূর্ব অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং আমরা জানিও না। কমিটি ঘোষণার পরে এমপিকে জানিয়েছে বলে শুনেছি। তবে তিনি এর বিরোধিতা করেছেন এবং স্থানীয় এমপি’র সঙ্গে কেন আলোচনা করা হয়নি এবিষয়ে প্রতিবাদও করেছেন। 

এবিষয়ে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ও সাংগঠনিকভাবে কমিটি ঘোষণার নিয়ম রয়েছে জানিয়ে বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও রমজান মাসের কারণে জেলা থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এক বছর মেয়াদে ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হলেও আগের যে কমিটি ছিল, তার মেয়াদ চার বছর পার হয়েছে। স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই কমিটি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) পাবনা জেলা ছাত্রলীগের প্যাডে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফিরোজ আলী ও সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় পূর্বতন কমিটি বিলুপ্ত এবং সংগঠনকে গতিশীল ও বেগমান করার লক্ষ্যে ১ বছরের জন্য ছাত্রলীগের উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো। জেলা কমিটিতে মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়কে সভাপতি এবং খন্দকার আরমানকে সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কমিটিতে আবির হাসান শৈশবকে সভাপতি এবং মারুফ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ইত্তেফাক/এমআর