স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ১৯:১৭

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজেস্ব ক্যাম্পাসে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

বিভাগের ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ এর অধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে যোগদেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সকলের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইফতার পরবর্তী কেক কাটার মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শেষ হয়। 

অনুষ্ঠানে আগত সাংবাদিকতা বিভাগের ১ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও ৫২ টিভির প্রতিবেদক অনন্যা চৈতি বলেন, প্রায় এক দশক পর ক্যাম্পাসে আসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পর কর্মব্যাস্ততায় এই প্রিয় প্রাঙ্গণে আর আসা হয়ে ওঠেনি। উপলক্ষ যাই হোক আমাদেরকে এভাবে একত্রীত করার জন্য যারা এই আয়োজন করেছেন তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ। 

বিভাগের ২৮তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও দেশ টিভির হেড অব এন্টারটেইনমেন্ট আলি আফতাব ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পর এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। বলতে গেলে আমাদের হাত ধরেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের পথচলা শুরু। আজ বিভাগের ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আসতে পেরে সত্যিই আমি খুবই আনন্দিত। এই আয়োজনের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ। 
 
বিভাগের ৩১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিবেদক জিন্নাতুর নূর সিন্থিয়া বলেন, এক দশকের বেশি সময় হয়ে গেছে ডিপার্টমেন্ট ছেড়েছি। আজ এই আয়োজনের মাধ্যমে কত বছর পর প্রিয় মুখগুলো দেখলাম। এই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। 

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার।

বিভাগের ৩১তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, আমার কোনোকিছুতে খুব ভালোলাগা তৈরি হলে, সাথে এক ধরনের হাহাকারও তৈরি হয়!  কারণ ভালো বিষয় গুলোর সময় খুব দ্রুত চলে যায়। হারিয়ে যায়। আজ দমকা হাওয়ার  মতো আমরা সবাই একসাথে হলাম। একেকটা মুখ ৪ বছরের অনেক স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। আজও কিছু স্মৃতি নিয়ে ফিরে যাবো। আমরা সবাই চলে এসেছি জীবনের অনেক দূর তারপরও এক নামে আমরা সবাই বাধা, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। আজ এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মাশায়েল অমি বলেন, দেশে যতগুলো গণমাধ্যম রয়েছে, তার প্রায় সবগুলাতেই এই প্রিয়-পরিচিত মুখগুলোকে দেখা যায়। ভালোলাগার জায়গা এটাই যে, আমরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিবার, আমরা স্ট্যামফোর্ড জেআরএন পরিবার। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল-২০২২ এর সুবাদে আবার অনেক দিন পর নিজের সহপাঠী-বন্ধুসহ অনেক শ্রদ্ধেয় মানুষের একসঙ্গে হওয়ার সৌভাগ্য হলো। এ আয়োজনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন বিভাগের সাব-এডিটর ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, দেশের একটি স্বনামধন্য একটি কোম্পানির গণসংযোগ কর্মকর্তা ও ৩৯তম ব্যাচের তানভীর আহমেদ, স্পাইস টিভির সিনিয়র নিউজরুম এডিটর ও  ৪০তম ব্যাচের তৌহিদ হাসান, দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও ৪৫তম ব্যাচের আহমেদ দীপ্ত, ইভেন্ট কোম্পানির পরিচালক ও ৪৫তম ব্যাচের মুজতবা আনাম সাদী, নাট্য নির্মাতা ও ৪৭ব্যাচের সায়েম জামান পিয়াস, নাট্য নির্মাতা ও ৪৭তম ব্যাচের মেজবাহ উদ্দিন, স্পাইস টিভির প্রতিবেদক ও ৪৮তম ব্যাচের রাকিবুল ইসলাম রাহাত, ব্যাসায়ী ও ৫০তম ব্যাচের কাজী বাধন, চ্যানেল আই এর অনলাইন বিভাগের সাব-এডিটর ও ৫১তম ব্যাচের মোইনুল হাসান পলাশ, ঢাকা ট্রিবিউন এর সাব-এডিটর ও ৫২তম ব্যাচের মেহেদী হাসান রনি, চ্যানেল ২৪ এর প্রতিবেদক ও ৫৩তম ব্যাচের তানভীর আহমেদ সিদ্দিকি, আর টিভির প্রতিবেদক ও ৫৫তম ব্যাচের সাকিবুর রহমান, আজকের পত্রিকার প্রতিবেদক ও ৫৫তম ব্যাচের নাজমুল হাসান সাগরসহ আরও অনেকে। 

আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়াসিন আরাফাত এর সঙ্গে তানভীর আহমেদ ও তৌহিদ হাসান।

আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়াসিন আরাফাত বলেন, প্রথমেই প্রথমে সবাইকে জানাই অসংখ্য কৃতজ্ঞতা ও অবিরাম ভালোবাসা। ধন্যবাদ জানাতে চাই তাদের প্রত্যেককে যারা আমাদের উপর আস্থা রেখে আমাদের এই আয়োজনে উপস্থিত হয়েছেন। তাদের আনন্দঘন উপস্থিতিই ছিল আমাদের এই আয়োজনের মূল সার্থকতা। কতটুকু পেরেছি জানি না তবে আমরা চেষ্টা করেছি। ইনশাল্লাহ সবার এই ভালবাসা ও দোয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবারও এর চেয়েও ভালো কিছু দেয়ার চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, এই অনুষ্ঠান সফল করার পেছনে আমার সঙ্গে আমার পুরো টিম অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। আমাকে নিরলস ভাবে সহযোগিতা করেছে। তাদের পরিশ্রমের কারণে এই অনুষ্ঠান সফলতা পেয়েছে। তাদের প্রতি আমি অশেষ কৃতজ্ঞ।

ইত্তেফাক/ইআ