হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জে একের পর এক ভাঙছে বাঁধ। তলিয়ে যাচ্ছে হাওরপাড়ের বোরো ফসল। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে আরও একটি বাঁধ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ১০০ একর বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
উপজেলার এরাইল্লা কোনা মনদিয়াতা বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় এই বিপুল পরিমাণ বোরো ফসল এখন পানির নিচে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকের এখন মাথায় হাত।
কৃষক বিলাল মিয়া বলেন, ‘বাঁধ দিয়া কিতা লাভ হইলো, আমরা তো ফসল ঘরে তুলতে পারলাম না। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়া সারাবছর কিভাবে কাটামু?’
কৃষক নানু মিয়া বলেন, ‘সরকার শতকোটি টাকা বরাদ্দ দেয় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য। কিন্তু সে টাকা দিয়ে পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সদস্যরা ঠিকমতো কাজ করেন না। ঠিকমতো কাজ করলে এতো অল্প পানিতে বাঁধ ভাঙতো না।’
কৃষক দিলোয়ার মিয়া বলেন, ‘তাহিরপুরের এরাইল্লা কোনা মনদিয়াতা বাঁধ ভেঙে পানি এতে তলিয়ে গেছে একশো একর বোরো ফসল। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবীর বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে যে বাঁধটি ভেঙেছে, সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের না। আমরা সরজমিনে ঘটনাস্থলে রয়েছি। গত এক সপ্তাহে জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা, শাল্লা ও দিরাই এই চার উপজেলায় নয়টি বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।’
গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সেসব অঞ্চলের কৃষকের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও নতুন একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বোরো ফসলের ক্ষতি নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলার ১১টি উপজেলায় ফাটল দেখা দেওয়া বাঁধগুলো দিনরাত পাহারায় রেখেছে হাওর পাড়ের মানুষেরা।
গত ১ এপ্রিল তাহিরপুরের নজরখালী বাঁধ ভেঙে ১২০ হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে যায়। এরপর একে একে আরও আটটি বাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়া, জেলার ছোটবড় সব হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
