‘দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তানের ইতিহাস সাংবিধানিক লঙ্ঘনের ঘটনায় পূর্ণ’

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ১৩:১২

পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের অধিবেশন শুরু হয়েছে। শনিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির এই অধিবেশন শুরু হয়। ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আজকের কর্মসূচির চার নম্বরে রয়েছে। আজই হতে পারে ইমরান খানের ভাগ্য নির্ধারণ।

অধিবেশন ইমরান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিরোধী পক্ষের অনাস্থা প্রস্তাবের অধিকার আছে। সরকারের তা মোকাবিলা করারও এখতিয়ার আছে।

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে ইমরানের দেওয়া ভাষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশে হতাশ। তবে তিনি আদেশ মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন।

কুরেশি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, পাকিস্তানের ইতিহাস সাংবিধানিক লঙ্ঘনের ঘটনায় পূর্ণ। ১৯৯৯ সালে অক্টোবরের ১২ তারিখ সংবিধান স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছিল। ওই সময় যখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তখন গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি আইনের বিরুদ্ধে ছিল।

এদিকে, শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া ভাষণে ইমরান খান বলেন, ‘বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপের দাবি নিয়ে তদন্ত করেনি সুপ্রিম কোর্ট, এই রায় নিয়ে আমি পুরোপুরি হতাশ। জাতীয় পরিষদ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে সম্মান করলেও এই রায়ে আমি দুঃখিত।’

বিদেশী শক্তিকে প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি সরকার পতনের বিদেশী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করেন তবে আপনি আপনার ভবিষ্যতকে ঝুঁকিতে ফেলবেন।’

পাকিস্তানে আমদানি করা সরকার মেনে না নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার আগামীকাল রোববার এশার নামাজের পর সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেন।

গত রবিবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী জোটের তরফে পেশ হওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির কথা থাকলেও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি তা খারিজ করে দেন। তিনি জানান, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব সংবিধানবিরোধী এবং তা দেশের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পাকিস্তানের সংবিধানের ৫ নম্বর ধারা মেনে এ নিয়ে কোনো ভোট করাতে পারবেন না তিনি।

এর পরেই ইমরান খানের সুপারিশে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেদিন রাতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন বিরোধীরা।

ইত্তেফাক/টিআর