রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তারা হলেন-ওমর ফারুক, নাসির উদ্দিন ওরফে কিলার নাসির, সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ ও মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ ও আরফান উল্লাহ দামাল। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার তাদেরকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিত ঢাকার মেট্রোপলিট ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারাহা দিবা ছন্দা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২৪ মার্চ রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শোরুমের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীও নিহত হন। এছাড়া টিপুর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।
আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুটার মাসুম মো. আকাশসহ ছয় জন এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর যে মোটরসাইকেলের পেছনে বসে মাসুম পালিয়ে যায়, সেই মোটরসাইকেল চালক মোল্লা শামীমকে শনাক্ত করতে পারলেও এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় দামাল নামে একজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ওই অস্ত্রটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা তা ফরেনসিক বিভাগে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিবি সূত্র জানায়, ঘটনার সময় একাধিক শুটার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। কাট-আউট পদ্ধতিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও মূলত কিলার মুছা গত ১২ মার্চ দুবাই যায়। সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি ওরফে জিসানের সঙ্গে পরিকল্পনা করে এ হত্যাকাণ্ডের ছক কষে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ২৪ মার্চ সন্ধ্যার পর ১১ জন শুটার নিয়োগ করে। এজিবি কলোনির টিপুর গ্র্যান্ড সুলতান রেস্টুরেন্ট থেকে তার শান্তিবাগের বাসা পর্যন্ত কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এই ১১ জন নজরদারি করে। এরপর রাত সোয়া ১০ টার দিকে শাহজাহানপুরে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নীচে টিপুকে বহন করা মাইক্রোবাসে উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, টিপু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজন আমাদের নজরদারিতে আছে। গ্রেফতারদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

টিপু-প্রীতি হত্যা: পাঁচ আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর
নিহত টিপু সেই মিলকী হত্যার আসামি ছিলেন