পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর শ্মশান ঘাটে মহাষ্টমীতে স্নান করতে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। করোনার ভয়াবহতা কাটিয়ে শনিবার (৯ এপ্রিল) প্রতিবারের মতো এবারো যমুনা নদীর পাড়ে ৩ শত বছরের পুরোনো ঘুড়কা শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরে যমুনা নদীর পাড়ে পুণ্যস্নান উৎসব এবং মেলার আয়োজন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মেলায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, পুতুল, ঘোড়া, ট্রাক গাড়ি, হাড়ি-পাতিল, মাছের দোকান, চিড়া-মুড়ি, দইসহ দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন।
ভোর থেকেই পুণ্যস্নান করতে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নানা বয়সী হাজারো ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা যমুনা নদীর পাড়ে আসছেন। এ সময় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে বিভিন্ন মানত ও দেশবাসীর জন্য শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন। এদিকে, মেলারও আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
স্নান করতে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, যমুনায় স্নান তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে পুণ্যার্থীরা স্নান করছেন তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য।’ অশোক ব্যানার্জি, অসীম মণ্ডল, প্রভাত কুমার দাশ,শ্যাম কুমার পাল সহ অনেকেই নদীর পাড়ে নতুন জলে পুণ্যস্নান করেছি ও পূজা দিয়েছেন। মহাষ্টমীতে এখানে স্থানীয় লোকজনসহ দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মেলা দেখতে আসেন।
পুণ্যস্নান ও মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা ও জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্যপরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড সুকুমার চন্দ্র দাশ জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পাপ মোচনের আশায় যমুনা নদীতে স্নান করতে এসেছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় স্নান উৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
