গত গ্রীষ্মে লিওনেল মেসি যখন বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি জমায়, তখন সবাই বলেছিল, প্যারিসের আক্রমণভাগকে থামানোর সাধ্য কার! আগে থেকেই ছিলেন নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। মেসি যুক্ত হওয়ায় তাদের নাম পরে ‘এমএনএম’ ত্রয়ী। কিন্তু কীসের কী, এই তিনজন দলে থাকার পরও চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ফরাসি লিগের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পিএসজিকে।
এর পরই সমালোচনা উঠে, ‘এমএনএম’ ত্রয়ী কেবল নামেই। কার্যত তাদের কোনো যুগলবন্দি নেই। সমর্থকরাও মেসি-নেইমারের নামে ধুঁয়ো দিতে থাকে। এইতো গত মাসে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পরাজয়ের পর গ্যালারিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
অবশ্য, যুগলবন্দি জমে না উঠার অন্যতম বড় কারণ হতে পারে তিন জনের একসঙ্গে সব ম্যাচ খেলতে না পারা। ইনজুরির কারণে চলতি মৌসুমে পিএসজির হয়ে অন্তত ১৬টি ম্যাচ খেলতে পারেননি নেইমার। মেসিও নিজেকে খুঁজে ফিরছেন। ২৭ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ৮ গোল ও সহায়তা ১৩টি। কেবল এমবাপ্পে ফর্মে আছেন। ফরাসি এই ফরোয়ার্ড ৩৯ ম্যাচে করেছেন ৩১ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২২ গোল।
তবে আশার কথা হলো, অবশেষে ছন্দ ফিরে পেতে শুরু করেছে এই ত্রয়ী। ক্রমশ বিধ্বংসী রূপে প্রতিপক্ষের সামনে চওড়া হচ্ছে। যার সর্বশেষ ঝলক দেখা গেলো গতরাতে। লিগ ওয়ানের ম্যাচে মিলিয়ে ক্লেরমঁকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। এতে হ্যাটট্রিক করেছেন এমবাপ্পে ও নেইমার দু'জনই। সঙ্গে একটি করে গোলে এসিস্টও আছে তাদের। আর মেসি গোল না পেলেও নেইমার-এমবাপ্পেকে দিয়ে করিয়েছেন তিনটি গোল। এর আগের ম্যাচেও গোল পেয়েছিলেন এই তিন জন।
তাইতো সমর্থকদের পাশাপাশি নেইমার-এমবাপ্পের কন্ঠেও এ নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ ঝড়লো। তাদের কথা, এই ছন্দটা আরও আগে ঝমলে ক্ষতি কী ছিল! গতকাল ম্যাচশেষে নেইমার বলেছেন, ‘জয় পাওয়ায় আমি খুশি, তিন গোল করতে পেরেছি বলেও খুশি। আমরা প্রতিদিনই আরও ভালো করছি, তিন জনই (মেসি, নেইমার ও এমবাপ্পে) শতভাগ ছন্দে আছি। কিন্তু এটা মৌসুমের শেষে এসে হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমরা মৌসুমের শেষে এসে ছন্দ ফিরে পেয়েছি। তবে এখনো যা বাকি আছে, এর সবটাই অর্জন করতে চাই।’
একই কথা বললেন এমবাপ্পেও। তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে, আমাদের তিন জনের জুটিটা এখন এসে জমতে শুরু করেছে। কিন্তু এখনো অর্জন করার অনেক কিছুই বাকি আছে। এটাও সত্যি যে, আমাদের তিন জন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। আমরা দলকে সাহায্য করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
