বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

দুস্থদের সেবায় ‘স্বাস্থ্য চাকা’

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২২, ০৯:৫৮

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস যখন বাংলাদেশে আঘাত হানে তখন মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। এ ভাইরাসে প্রাণহানির কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। জীবন এবং জীবিকা নিয়ে যখন মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তখন নানা সামাজিক সংগঠন আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসে। আমাদের প্রতিধ্বনি ফাউন্ডেশন এমন একটি সংস্থা যেটি করোনাকালীন মানুষের সেবায় এগিয়ে আসে।

একেবারে ব্যক্তিগত তহবিল দিয়ে ঐ সময়ে মানুষের খাদ্যসহ নিত্যপণ্য সরবরাহ, শঙ্কিত মানুষের মানসিক সামর্থ্য বাড়ানোসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ফাউন্ডেশনটি। সেই থেকে শুরু। এরপর দিন দিন ফাউন্ডেশনটির কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ এ সংগঠনের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে ‘স্বাস্থ্য চাকা’ নামের একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন বাসকে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে রূপ দিয়ে গরিব-দুঃখী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

আমাদের প্রতিধ্বনি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সানজিদা ভুঁইয়া হক শুরু থেকে নিরলস কাজ করছেন দুঃখী মানুষের জন্য। নিজের কাজকে কোনো একটি খাতে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।

ইত্তেফাককে তিনি জানান, বাংলাদেশে সব পণ্যের মার্কেটিং আছে কিন্তু সামাজিক কাজগুলোর তেমন মার্কেটিং হয় না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে এসব সামাজিক কাজের জন্য যে স্বীকৃতি পাওয়া যায় বাংলাদেশে তেমন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাজসেবার ধারণা নিয়ে সানজিদা হক বলেন,‘আমার মা জাকিয়া আলী ভুঁইয়া বরাবরই সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও বন্ধুদের নিয়ে আমরা বিভিন্ন রকম সামাজিক কাজ করেছি। বিদেশে পড়াশোনা করার সময় বেশকিছু বিষয় পর্যবেক্ষণ করে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, সমাজ বদল করতে হলে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সরকারের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়।

আমাদের প্রতিধ্বনি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ‘স্বাস্থ্য চাকা’ সম্পর্কে সানজিদা হক বলেন, মেডিক্যাল ক্যাম্প আমরা আগেও করেছি। তায়রুন্নেছা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের সঙ্গে মিলে আমরা এ ক্যাম্প পরিচালনা করতাম। রাজধানী এবং বাইরের জেলাগুলোতে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা ছিল এ মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে। মোট পাঁচটি বিভাগে চিকিত্সকরা সেবা দিতেন রোগীদের। গাইনি, নাক, কান গলা এবং জেনারেল মেডিসিন বিভাগে রোগীদের নানা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিনা খরচে কিছু ওষুধও দেওয়া হয়েছে এস মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে।

তিনি জানান, ক্যাম্প শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করার কারণে রোগীর চাপও ছিল সব সময়। তবে স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা মেডিক্যাল ক্যাম্পের জায়গা দিয়ে আমাদের কাজটা একটু সহজ করে দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে আমরা চিন্তা করেছি যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীদের কাছে পৌঁছাতে হলে ভ্রাম্যমাণ গাড়ির বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যে ‘স্বাস্থ্য চাকা’ চালু করা হয়েছে। একটি বাসকে মোটামুটিভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রোগীদের কিছু মৌলিক পরীক্ষা-নিরীক্ষারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অক্সিজেন এবং নেবুলাইজেশন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তায়রুন্নেছা মেডিক্যালের ডাক্তাররা এখানে রোগীদের দেখেন। শুরুর দিকে স্বাস্থ্য চাকা থেকে শুধু রাজধানীর গরিব-দুঃখী মানুষকে সেবা দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে এর কর্মকাণ্ড জেলা শহরেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সানজিদা হক বলেন, উন্নত দেশগুলোতে মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা একটি প্রচলিত ধারণা। আমাদের প্রতিধ্বনি ফাউন্ডেশনকে আমরা সে পর্যায়ে নিতে চাই। এ লক্ষ্যে সব মহলের সহযোগিতা দরকার।

আমাদের প্রতিধ্বনি ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড যাতে সুচারুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য এটার সাত সদস্যের বোর্ড করা হয়েছে। এখানে মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে নানারকম সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সানজিদা হক জানান, স্বাস্থ্য চাকার আদলে তাদের ফাউন্ডেশন শিশুদের জন্য মোবাইল স্কুল চালু করবে। এখানে তাদের কিছু মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ