নিজেকে কখোনেই প্রতিবন্ধী মনে করেননি শাহিদা। তাই পড়াশুনাসহ স্বাভাবিক মানুষের মতো সব কাজই করেছেন নিজ আগ্রহে। তাই তিনি একজন কর্মকর্তা পদে কাজ পেয়েছেন। পেছনে ফেলেছেন সকল প্রতিবন্ধকতা।
প্রতিবন্ধী শাহিদা কর্মকর্তা পদে যোগ দিলেন অভয়নগর উপজেলার তালতলা এলাকায় অবস্থিত দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আকিজ জুট মিলে। ঝিকরগাছার শিমুলিয়া গ্রামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শাহিদার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুন। তার এক হাত, দুই পা নেই। তারপরও তিনি জীবনযুদ্ধ থেমে নেই। লেখাপড়া করে স্নাকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিবন্ধিত্ব জয় করে শিখেছেন সেলাই, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কাজ। অবশেষে পেয়েছেন চাকরি। সে চাকরি পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। সমাজ ব্যবস্থায় তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে সে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছে।
যশোরের অভয়নগরে আকিজ জুট মিলে এডমিন বিভাগের এক্সিকিউটিভ পদে যোগদান করেন অদম্য শাহিদা খাতুন। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, পড়াশুনার প্রতি আমার আগ্রহ অনেক বেশি ছিল। পড়াশুনার জোরেই কাজটা পেয়েছি। অন্যদের উদ্দেশে বলেন, সমাজের যারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তারা কেউ আপনারা বসে থেকে অন্যের বোঝা হবেন না। নিজের ওপর আস্থা রাখবেন। পরিশ্রম করলে সফলতা এক দিন আসবেই। এই চাকরির সুবাদে আমি বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। প্রতিবন্ধিতাকে হার মানিয়ে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতে পারব।আমার জন্য সকলে দোয়া করবেন। এ ব্যাপারে আকিজ জুট মিলের নির্বাহী পরিচালক শেখ আব্দুল হাকিম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সেখ নাসির উদ্দিনের নির্দেশে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবন্ধী নিয়োগ কোটায় শাহিদা খাতুন কর্মকর্তা পদে যোগদান করেছেন। কর্মক্ষেত্রে সকল কাজে তিনি আমাদের সহযোগিতা পাবেন।
বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শাহিদা খাতুন। তার এক হাত, দুই পা নেই। সে জীবনযুদ্ধে থেমে নেই। লেখাপড়া করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে। প্রতিবন্ধিত্ব জয় করে শিখেছেন সেলাই, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কাজ। তাই আমরা তার কাজের ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট হয়েছি। যে কারণে সে আজ বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে
