আরো গভীর সংকটে শ্রীলঙ্কা

ফুরিয়ে আসছে ওষুধ বন্ধ হচ্ছে জরুরি সার্জারি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২২, ০০:৫৫

দেশটির মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এসএলএমএ) জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সার জন্য জরুরি বিদেশি ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না। কিছুদিনের মধ্যেই জরুরি প্রয়োজনে সার্জারিও বন্ধ করে দিতে হবেদিন যতই যাচ্ছে, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট ততই ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্হিতির চরম বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। রাজপথে নেমে তারা সরকারপতনের আন্দোলনও করছে।

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে লোডশেডিং, জ্বালানি তেল ও পানির তীব্র সংকট সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। এ অবস্হায় চিকিত্সকেরা নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, হাসপাতালের সব জরুরি ওষুধ শেষ হয়ে আসছে, শিগ্গির বন্ধ হতে চলেছে জরুরি অপারেশন কার্যক্রম। খবর দ্য গার্ডিয়ানের

‌দেশটির মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এসএলএমএ) জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সার জন্য জরুরি বিদেশি ওষুধ ও সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রুটিন সার্জারিও আর করা যাচ্ছে না। অবস্হা এমন দাঁড়িয়েছে যে, কিছুদিনের মধ্যেই জরুরি সার্জারিও বন্ধ করে দিতে হবে। 

তারা আরো জানান, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কে চিকিত্সা পাবে এবং কে পাবে না। সংগঠনটির তরফে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষেকে চিঠি দিয়ে আরো জানানো হয়েছে, যদি কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না যায়, তবে মহামারির থেকে আরো খারাপ পরিস্হিতি তৈরি হবে। 

এদিকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সামনে দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা অবস্হান নিয়েছে সেখানে। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষেকে ইস্তফা দিতে হবে। ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আর্থিক সম্ভাবনার অন্যতম দেশ হতে পারত দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। কিন্তু তেমনটি না ঘটে বরং ফল হয়েছে উলটো। দিনে দিনে বেড়েছে ঋণের বোঝা। ভেঙে পড়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারব্যবস্হা। 

চা উত্পাদনে অগ্রগণ্য, শিক্ষিত জনগণ, পর্যটন খাতে বিপুল পরিমাণ আয়, তা সত্ত্বেও কেন শ্রীলঙ্কার এমন আর্থিক পরিণতি তার জন্য এককভাবে কোনো কারণকে দায়ী করা মুশকিল। শ্রীলঙ্কার নাগরিকেরা বলছেন, ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি দেশটির অর্থনীতি। 

ইত্তেফাক/এসআর