বাঙালির লোকসংস্কৃতির লালিত ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ। পুরোনো বছরকে পেছনে ফেলে সমাগত নতুন বছর। আজ বৃহস্পতিবার পহেলা বৈশাখ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে নানা কর্মসূচির মধ্যে দোকানিরাও গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন পদক্ষেপ। ছোটবড় প্রতিটি দোকানে দোকানে চলেছে হালখাতার প্রস্তুতি। জানা যায়, পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকে নতুন বছরে নতুন খাতায় নাম তোলাই হলো হালখাতা।
‘হালখাতা’ আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি, যা পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে চলে পুরো মাস জুড়ে। বর্তমানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানের হিসাব আনুষ্ঠানিক হালনাগাদের এ প্রক্রিয়ায় অনেকটা ভাটা পড়েছে। এক সময় দোকানে দোকানে খোলা হতো হালখাতা। প্লেটে করে মিষ্টি বিতরণ করা হতো দোকানে দোকানে। ক্রেতারা পুরোনো হিসাব পরিশোধ করতে আসতেন। দোকানিরাও ক্রেতাদের জন্য চা, মিষ্টি, সন্দেশসহ নানা আয়োজন করে রাখতেন। বর্তমানে হালখাতা ভাটা পড়লেও শহরের চেয়ে গ্রামে এর প্রচলন বেশি।
মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দোকানে বাহারি ধরনের হালখাতার কার্ড বিক্রি হচ্ছে। শহরের বড় বাজারের মুদি মনোহারী ব্যবসায়ী হোসেন আলী ও গ্যাদা মণ্ডল বলেন, খরিদদারদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য দুই দিনের হালখাতার আয়োজন করেছি। কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ডিগ্রি কলেজের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম ও বিশিষ্ট আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা সুকুমার চন্দ্র দাস বলেন, পহেলা বৈশাখে পুরোনো বছরের হিসাব-নিকাশ শোধ করে দোকানিরা মিষ্টিমুখ করিয়ে ক্রেতাদের স্বাগত জানানোর আনন্দ অতুলনীয়, যা চলে বৈশাখ মাস জুড়েই।
