টাইটানিক ছিল সেই সময়ের বৃহৎ আধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক সিটির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি।
চার দিন চলার পর ১৪ এপ্রিল স্থানীয় রাত প্রায় ১২টার দিকে আটলান্টিক সাগরের বুকে তখন ভেসে যাচ্ছে টাইটানিক। জাহাজটি যখন আমেরিকার কাছাকাছি গ্র্যান্ড ব্যাংকস অফ নিউফাউন্ডল্যান্ডে চলে এসেছে। তখন আবহাওয়া খুবই খারাপ; ভীষণ ঠাণ্ডা আর জমাট বাঁধা কুয়াশা। নিউফাউন্ডল্যান্ড পার হয়ে যাওয়া জাহাজগুলো এর মধ্যেই এখানকার ভাসমান বরফ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে টাইটানিককে।
কিন্তু টাইটানিকের ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড জন স্মিথ আর অন্য ক্রুরা তো তাদের এসব কথাকে পাত্তাই দেননি। টাইটানিক আগের মতোই ২১ নটিক্যাল মাইলে (২৪ মাইল) চলতে লাগলো। তখন টাইটানিক ছিল অন্যতম দ্রুতগতির জাহাজ, আর তার সর্বোচ্চ গতিই ছিল ২৪ নটিক্যাল মাইল। পরে আটলান্টিক মহাসাগরে টাইটানিক একটি হিমশৈলতে ধাক্কা খায়। এরপর জাহাজটি নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের কাছাকাছি ডুবে যায়।
জাহাজটিতে প্রায় ২ হাজার ২০০ জন যাত্রী ছিল। এরমধ্যে মধ্যে ৭০০ যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকী প্রায় ১ হাজার ৫০০ যাত্রীর মৃত্যু হয়। সমুদ্র পথের এতবড় এ দুর্ঘটনা তখন থেকেই পর্যন্ত মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে আছে।
টাইটানিকে যাত্রীদের ছিল তিনটি শ্রেণি। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়। টাইটানিক ছিল মূলত সে সময়ের বিলাসিতার অন্যতম প্রতীক।

