বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নালিতাবাড়ীতে হাতি আর মানুষের লড়াই চলছেই

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১০:১৭

প্রায় ২৫ বছর ধরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের মানুষ আর ভারতীয় বন্যহাতির মধ্যে লড়াই চলছেই। প্রতি রাতেই বন্যহাতির তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই হাতি দলবেঁধে পাহাড় থেকে নেমে এসে তাণ্ডব চালায় ফসলি জমি, এমনকি লোকালয়েও। ফসল খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে উঠতি ফসল হারিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এমন অবস্থায় ঢাকঢোল বাজিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।

গত শনিবার রাতে ভারত সীমান্তঘেঁষা পানিহাটা এলাকায় সরেজমিনে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ২৫/২৬টির একটি বন্যহাতির দল অবস্থান করছে মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা দলদামা-জমটিলার পাহাড়ি অঞ্চলে। পাহাড়টির অবস্থান বাংলাদেশের পানিহাটা সীমান্তঘেঁষা। হাতির এই দলটি প্রায় প্রতি দিন সন্ধ্যায় উপজেলার পানিহাটা এলাকার মারং গোঁফ ও তালতলা দিয়ে নেমে আসছে ফসলের জমিতে। পানিহাটা মৌজার বোরো আবাদ খেয়ে পায়ে মাড়িয়ে বিনষ্ট করে দিচ্ছে। কয়েক দিনের অব্যাহত অত্যাচারে পানিহাটায় বিনষ্ট হয়েছে ছয় জন কৃষকের প্রায় ছয় একর জমির বোরো ধানক্ষেত। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। তাদের অভিযোগ, প্রতি বোরো ও আমন মৌসুমে বন্যহাতির এ দলটি বোরো বীজতলা, আমনের ধানক্ষেত, এমনকি গাছের কাঁঠাল পর্যন্ত খেয়ে সাবাড় করে ফেলে। খাদ্যের সন্ধানে অভুক্ত হাতিগুলো লোকালয়ে এসে ছুটাছুটি করে। হাতির তাণ্ডবে এখন তাদের রাত কাটে নির্ঘুমে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হিলসন ডিও, জয়নাল আবদীন, মোতালেব হোসেন ও হযরত আলী জানান, প্রতি বছর বন্যহাতিগুলো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। তারা বন্যহাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকারের সহযোগিতার দাবি জানান। বিজার কুবি বলেন, হাতিগুলো পাহাড় থেকে দল বেঁধে নেমে আসে ফসলের খেতে। রাত জেগে পাহারা দিয়েও রক্ষা হচ্ছে না। বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, কয়েক দিন থেকে ২৫/২৬টির বন্যহাতির দল পানিহাটার জঙ্গলে অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর পর হাতির দলটি খেতে নেমে ফসলি জমি পা দিয়ে মাড়িয়ে ও খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলেছি। এই রিপোর্ট লেখার সময় গতকাল রবিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যহাতির দলটি পানিহাটা-মায়াঘাসি সীমান্ত এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

ইত্তেফাক/এমআর